জেলাশাসক দপ্তরের এক গাড়ি চালকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহারে

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কোচবিহার :: বুধবার ১৯,আগস্ট :: জেলাশাসক দপ্তরের এক গাড়িচালকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহারে। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার-২ ব্লকের চকচকা গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়গিলা এলাকায়।

মৃতের নাম তাপস সরকার (৩৬)। তাঁর বাড়ি খাপাইডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের তলিতলা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে তার বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে বড়গিলা এলাকায় রাস্তার উপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাপসকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে তাপসের জুতো দু’টি দুই দিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি ঘিরে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাপস সরকার জেলাশাসক দপ্তরের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি নিজের স্কুটি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের তিনি জানিয়েছিলেন, একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান এবং মনসা পূজার নিমন্ত্রণে যোগ দিয়ে রাতে বাড়ি ফিরবেন।

রাত ১২টা পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ফোন করেন। তখন তাপস ফোনে বাড়ি ফেরার কথা জানান। কিন্তু কিছুক্ষণ পর এক প্রতিবেশী যুবক বাড়িতে এসে জানান, তাপস এক্সিডেন্ট হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এরপর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাপসকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এদিকে, যে স্কুটি নিয়ে তাপস বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, সেটি ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। জানা গিয়েছে, স্কুটিটি তাঁর এক বন্ধুর বাড়িতে রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তাপস কীভাবে এবং কার সঙ্গে বড়গিলা এলাকায় পৌঁছেছিলেন।

সেখানে কারও সঙ্গে তাঁর কোনও বিবাদ বা ধস্তাধস্তি হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তবে এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয়। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − 11 =