তিন টানে শুরু হলো চন্দননগরের এই বছরের রথযাত্রা।

জাকির আলী  :: সংবাদ প্রবাহ :: মায়াপুর :: বৃহস্পতিবার ১৬,জুলাই :: চন্দননগরের রথযাত্রা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ রথযাত্রা। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৭৪ থেকে ১৭৭৬ সালের মধ্যে লক্ষ্মীগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী যদুবেন্দ্র (যদু) ঘোষ, যিনি ‘যদু ঘোষ’ বা ‘জোড়ু ঘোষ’ নামেও পরিচিত, এই রথযাত্রার সূচনা করেন।

কথিত আছে, যদুবেন্দ্র ঘোষ পুরীধামে জগন্নাথ দর্শনে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে সেই যাত্রা সম্পূর্ণ করতে পারেননি। পরে তিনি স্বপ্নাদেশ পান এবং চন্দননগরের লক্ষ্মীগঞ্জে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই রথযাত্রার প্রথা শুরু হয়।

১৯৬২ সালে কাঠের রথের পরিবর্তে ব্রেইথওয়েট অ্যান্ড কোম্পানি নির্মিত ধাতব কাঠামোর নতুন রথ চালু হয়, যা আজও ব্যবহৃত হচ্ছে। কত বছরের এই রথ তা এখনো সঠিকভাবে কেউ বলতে পারেনি। এখন বর্তমানে চন্দননগরের এই ঐতিহাসিক রথ সার্বজনীন রথে পরিণত হয়েছে।

সকাল থেকেই চন্দননগরের বুকে সাধারণ মানুষের ভিড় উড়ছে পড়েছিল। সকালের তিন টান দেওয়ার পর বিকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে চন্দননগর লক্ষীগঞ্জ বাজার থেকে তালডাঙ্গা দিকে বহু মানুষ বহু ভক্ত রথের দড়ি টেনে সেই রথ নিয়ে যায় জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে।

জগন্নাথ বলরাম এবং সুভদ্রাকে রথে করে টেনে নিয়ে তালডাঙ্গার মাসির বাড়িতে পৌঁছে দেয় ভক্তরা। এই বছর নতুন সরকার আসার পর চন্দননগরে রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। আজ এই রথযাত্রায় অংশ নেন চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ।

তিনি বলেন জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এই রথ প্রতিবছরই হয়ে আসে এর কোন ব্যতিক্রম নেই এই বছর একটু অন্যরকম ভাবে রথ পরিচালনা করা হচ্ছে। কারণ রাজ্য সরকার চন্দননগরে এই রথ কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। তাই এই রথ উপলক্ষে সমগ্র চন্দননগর জমজমাট হয়ে উঠেছে বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 + 20 =