নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা ডেস্ক :: সোমবার ১৫,জুন :: তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে যখন জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা চলছে, তখনই সামনে এল নতুন এক জটিলতা।
বিদ্রোহীদের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে আলোচিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর অন্দরে মতপার্থক্য ও নেতৃত্বের প্রশ্নে টানাপোড়েনের খবর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।

শিউলি কুন্ডু
দলটির সাধারণ সম্পাদক শান্তনু দে আগে এই সংযুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন, তিনিই এখন ইউ-টার্ন নিয়ে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
গতকাল পর্যন্ত এনসিপিআই-এর সাধারণ সম্পাদক শান্তনু দে দাবি করেছিলেন যে, দলীয় নেতাদের সাথে পরামর্শ না করেই তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি দলের সভাপতি উত্তীয় কুণ্ডুর বিরুদ্ধে টাকা লেনদেনের গুরুতর অভিযোগও তুলেছিলেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূল থেকে আসতে চাওয়া একাধিক সাংসদকে গ্রহণ করা হবে কি না, সেই প্রশ্নে এনসিপিআই-এর শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। দলের একাংশ মনে করছে, সংসদে শক্তি বাড়ানোর জন্য বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাগত জানানো উচিত।
অন্য অংশের যুক্তি, হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক সাংসদ যোগ দিলে দলের নিজস্ব আদর্শিক অবস্থান ও সাংগঠনিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ এনসিপিআই-এ যোগ দেন, তাহলে দলটির বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোর উপর চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
কারণ নতুন সাংসদরা সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দাবি করতে পারেন, যা পুরনো নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতের কারণ হতে পারে। তবে আজ দলীয় বৈঠকের পর তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা এনসিপিআই-তে যোগ দিলে তারা স্বাগত জানাবেন।
তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতার মধ্যেই এই নতুন সমীকরণ রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষত বিরোধী রাজনীতির পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নে এনসিপিআই-এর অবস্থান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্পষ্ট হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিদ্রোহী শিবিরের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শুধু দলত্যাগের উপর নয়, বরং তারা যে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যেতে চাইছেন, সেই দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য কতটা দৃঢ় তার উপরও।
ফলে তৃণমূলের বিদ্রোহে যে নতুন মোড় এসেছে, তা এখন শুধু বিদ্রোহীদের নয়, এনসিপিআই-এর ভবিষ্যৎ রাজনীতিকেও বড় পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়েছে।

