দিল্লিতে কাকলির দাবি ২০ নয় বিদ্রোহী হয়ত ২২ – ঠিক হবে আজ রাতে কাকলির নৈশ ভোজেই

সুদেষ্ণা মন্ডল  :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: রবিবার ১৪,জুন :: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার শনিবার দিল্লিতে দাবি করেছেন যে তাঁদের সঙ্গে থাকা সাংসদদের সংখ্যা আরও বেড়ে ২২-এ পৌঁছতে পারে।

যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবু দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, আজ রাতেই দিল্লিতে কাকলী ঘোষ দস্তিদারের বাসভবনে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি নৈশভোজ-সহ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

সেখানে আগামীকাল অম বিড়লা-র সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাতের রূপরেখা, সাংসদদের অবস্থান এবং লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জল্পনা। বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই স্পিকারের কাছে নিজেদের অবস্থান জানাতে উদ্যোগী হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে রবিবার সকালে তৃণমূলের তিন পরিচিত মুখ দেব,সয়নি ঘোষ এবং মালা রায় দিল্লিতে পৌঁছেছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর। তাঁদের সফরকে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। তবে তাঁরা কোন শিবিরে অবস্থান নেবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য সামনে আসেনি।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি নিয়ে নানা দাবি-পাল্টা দাবি চললেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে স্পষ্ট করেছে। সম্প্রতি প্রবীণ সাংসদ  সুদীপ বন্দোপাধ্যায়  এর বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক দলীয় সংকটকে আরও প্রকট করেছে।

অন্যদিকে দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি ইতিমধ্যেই সংগঠনে একাধিক রদবদল করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিদ্রোহী বলে পরিচিত কয়েকজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরানো হয়েছে বলেও খবর।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামীকাল স্পিকারের সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাৎ এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই বিদ্রোহ কেবল চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি লোকসভায় একটি বড় রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সূচনা।

তবে বিদ্রোহী শিবিরের ‘২২ সাংসদ’-এর দাবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয় এবং তৃণমূলের মূল নেতৃত্বও এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + 11 =