নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: নয়াদিল্লি ব্যুরো :: শনিবার ৯,মে :: রাজধানী দিল্লিজুড়ে জারি করা হল হাই এলার্ট। গোয়েন্দা সূত্রে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কার খবর সামনে আসতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, মেট্রো স্টেশন, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং রাজনৈতিক দলগুলির সদর দফতর। এরই মধ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জারি হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা।
সূত্রের খবর, কয়েকটি সন্দেহজনক বার্তা এবং সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ, এনএসজি এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর একাধিক প্রবেশপথে চলছে কড়া তল্লাশি।
গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনী। বিশেষ করে বিজেপির সদর দফতরকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দফতরে প্রবেশের আগে প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লাগেজ স্ক্যানিংয়ের পাশাপাশি বিস্ফোরক শনাক্তকারী যন্ত্রও ব্যবহার করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কয়েকজন শীর্ষ নেতার ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে দলীয় কার্যালয়গুলিকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট হামলার তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সম্ভাব্য ঝুঁকিকে গুরুত্ব দিয়েই সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।”
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাতভর তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। বহু জায়গায় গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। মেট্রো স্টেশনগুলিতেও যাত্রীদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে।
দিল্লি বিমানবন্দরে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক টার্মিনালে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিজেপির একাধিক নেতা দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। অচেনা ব্যক্তি বা সন্দেহজনক কোনও বস্তু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন। সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো খবর বা গুজব ছড়ালে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দিল্লি পুলিশ। রাজধানীর পরিস্থিতির উপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সরাসরি নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে গোটা দিল্লি কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মোড়া।

