ধর্মতলায় মমতার ধর্না – নজরে গোটা রাজ্য, বিদ্রোহীদের বার্তা নাকি নতুন রাজনৈতিক রণকৌশল?

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: মঙ্গলবার ২,জুন :: রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে মঙ্গলবার দুপুরে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে পৌঁছলেন মমতা ব্যানার্জি ।

মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নামঞ্চ থেকে এভাবেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় |

তাঁর অভিযোগ, বেআইনিভাবে তৃণমূল বিধায়ক, কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তবে সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।

তাঁর সঙ্গে উপস্থিত রয়েছেন মদন মিত্র কুনাল ঘোষ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় এবং দোলা সেন । দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত এই ধর্না ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে।ধর্নাস্থল এবং সংলগ্ন এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি মহিলা পুলিশের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ধর্মতলার একাধিক প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং আগতদের তল্লাশির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সম্ভাব্য ভিড় এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কথা মাথায় রেখেই এই নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।

সাংগঠনিক ভাঙনের গুঞ্জন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির টানাপোড়েনের মাঝে মমতার এই ধর্না রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিল।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক দলীয় সংকট, বিধায়কদের একাংশের অসন্তোষ এবং বিরোধীদের আক্রমণের মুখে এই ধর্না মঞ্চ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন    মমতা ।

দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ঐক্যের ডাক, বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান কিংবা বিজেপি ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ— সব কিছুই তাঁর ভাষণে উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূলের অন্দরে চলা টানাপোড়েনের আবহে মমতার বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ধর্না মঞ্চ থেকে তিনি সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, বিরোধীদের ভূমিকা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখাও তুলে ধরতে পারেন বলে জল্পনা।

এদিন দুপুর ২টো নাগাদ কালীঘাটের বাসভবন থেকে বেরিয়ে প্রথমে রেড রোডে বিআর অম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন-সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা।

এরপর সেখান থেকে সোজা ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চে পৌঁছান মমতা। কর্মসূচিতে যোগ দেন ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো প্রবীণ নেতারাও।

বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে মমতার বক্তব্যের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কী বলবেন, তা তাঁর ভাষণ শুরু না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আজকের ধর্না শুধু প্রতিবাদ কর্মসূচি নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 1 =