সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: নরেন্দ্রপুর :: মঙ্গলবার ২৬,মে :: দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার রামচন্দ্রপুর এলাকায় মঙ্গলবার একটি কালি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটিতে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ মজুত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে আচমকাই কারখানার ভিতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা কারখানাজুড়ে।
আগুনের লেলিহান শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়া দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই নিরাপত্তার কথা ভেবে এলাকা থেকে দূরে সরে যান। আশপাশে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কারখানায় কালি তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, আগুন লাগার পর বিস্ফোরণের মতো শব্দও শোনা যায়, যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
আগুনের উৎস কীভাবে তৈরি হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণে আগুন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। প্রথমে দুটি ইঞ্জিন পৌঁছালেও আগুনের ভয়াবহতা দেখে পরে আরও ইঞ্জিন পাঠানো হয়।
বর্তমানে মোট ৬ টি দমকলের ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছে। দমকল কর্মীরা আগুন যাতে আশপাশের অন্য কারখানা বা বসতবাড়িতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন।
পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কৌতূহলী মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে।
আপাতত হতাহতের কোনও খবর নেই বলেই জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তবে কারখানার ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ কারখানায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শিল্পাঞ্চল বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাসায়নিক কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে দমকল ও প্রশাসনের তরফে তদন্ত শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। কী কারণে আগুন লাগল এবং কারখানায় নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বর্তমানে দমকলের কর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

