নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ধূপগুড়ি :: রবিবার ২৩,আগস্ট :: সাতসকালে স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। এরপর সরাসরি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন অভিযুক্ত স্বামী। পুলিশের কাছে স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করার পাশাপাশি নিজেও কীটনাশক খাওয়ার কথা জানান তিনি।
ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধূপগুড়ির বারঘরিয়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারঘরিয়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ওরফে রুবেল এদিন সকালে স্ত্রী রিয়া পারভীনের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ। সেই সময় জাহাঙ্গীরের মা শৌচালয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি দেখতে পান।
ছেলেকে আটকানোর চেষ্টা করলে তাঁকেও ছুরি দিয়ে পায়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরই ধূপগুড়ি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন জাহাঙ্গীর। থানায় তিনি জানান, স্ত্রীকে খুন করার পর নিজেও ঘাস মারার কীটনাশক খেয়েছেন।
থানার বারান্দায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। তাঁর মায়েরও হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। অন্যদিকে, স্ত্রী রিয়া পারভীনের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্তের দাবি, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর জামাইবাবুর অবৈধ সম্পর্ক ছিল।
সেই সন্দেহেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পুলিশকে জানান তিনি। তাঁদের চার বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। যদিও অভিযুক্তের এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মৃতার আত্মীয় ফিরদৌস জামান। তাঁর দাবি, রিয়া ভালো চরিত্রের মহিলা ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপর অত্যাচার চলত বলে অভিযোগ।
সেই কারণে তিনি বাপের বাড়িতে থাকতেন। ঘটনার দু’দিন আগে জাহাঙ্গীর তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন বলেও দাবি পরিবারের। তাঁদের আরও অভিযোগ, এর আগেও রিয়া ও তাঁর সন্তানকে খুনের চেষ্টা করেছিলেন জাহাঙ্গীর।
ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ, তা খতিয়ে দেখছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। অভিযুক্তের পরকীয়ার অভিযোগ এবং মৃতার পরিবারের পাল্টা অভিযোগ, দুই দিকই তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

