নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কাটোয়া :: মঙ্গলবার ২৬,মে :: চিকিৎসার চরম গাফিলতি এবং পরিকাঠামোগত শূন্যতার অভিযোগে অবশেষে কাটোয়া শহরের পুরোনো ও বিতর্কিত ‘কাটোয়া নার্সিংহোম’-এ তালা ঝুলাল প্রশাসন।
সম্প্রতি এই নার্সিংহোমে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য দপ্তর ও মহকুমা প্রশাসনের যৌথ তদন্তের পরেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সিএমওএইচ দপ্তরের নির্দেশে নার্সিংহোমটি অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছে।
কিছুদিন আগেই এই নার্সিংহোমে ভর্তি হওয়া এক প্রসূতি মহিলার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর আচমকাই শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। অভিযোগ, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ রোগীকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে দায় এড়াতে চায়।
কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকেরা ওই প্রসূতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নার্সিংহোমটির বিরুদ্ধে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃতের পরিবার।
কাটোয়া শহরের এই বেসরকারি নার্সিংহোমটির বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ ও অব্যবস্থার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের জেরে এই নার্সিংহোমের লাইসেন্স বাতিল করেছিল স্বাস্থ্য দপ্তর। তবে পরবর্তীতে উচ্চ পর্যায় থেকে পুনরায় রিনিউয়াল বা লাইসেন্স দেওয়া হলেও, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ নূন্যতম সরকারি প্রোটোকল ও চিকিৎসাগত মান বজায় রাখেনি বলে অভিযোগ।
“ডেলিভারি করানোর মতো উপযুক্ত পরিবেশ নেই”, বিস্ফোরক হাসপাতাল সুপার । তদন্ত ও নার্সিংহোম সিল করার বিষয়ে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডক্টর বিপ্লব মণ্ডল স্পষ্ট ভাষায় জানান:
“উক্ত নার্সিংহোমটিতে একটি মাতৃ মৃত্যুর ঘটনা জড়ানোর পর স্বাস্থ্য দপ্তর ও সাধারণ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যৌথ পরিদর্শন এবং স্ক্রুটিনি করা হয়।
তদন্ত রিপোর্টে পরিষ্কার জানা গেছে যে, সেখানে চিকিৎসার পরিকাঠামোগত প্রচুর খামতি রয়েছে। কোনো সুস্থ ও স্বাভাবিক উপায়ে সিজার বা নরমাল ডেলিভারি করানোর মতো উপযুক্ত পরিবেশ সেখানে নেই।
এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিএমওএইচ দপ্তর থেকে এটি বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয় এবং আমাকে ও আইসি (IC)-কে নার্সিংহোমটি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে আমরা তা কার্যকর করেছি।”
প্রশাসনিক নির্দেশের পর সোমবারই নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন বাকি রোগীদের সুরক্ষিতভাবে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সম্পূর্ণ খালি অবস্থায় নার্সিংহোমের মূল ফটকে সরকারি সিলমোহর লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই নার্সিংহোম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর মহকুমার অন্যান্য বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

