সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: ডায়মন্ড হারবার :: মঙ্গলবার ৯,জুন :: ফলতা এলাকার বহুচর্চিত তৃণমূল নেতা তথা ‘ফলতার পুষ্পা’ নামে পরিচিত জাহাঙ্গীর খানকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালত। মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়।
জাহাঙ্গীর খানকে আদালতে আনার সময় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। আদালত চত্বর ঘিরে রাখা হয় পুলিশি নিরাপত্তায়। সূত্রের খবর, ফলতা থানার পক্ষ থেকে আদালতে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর খানের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছিল।
তদন্তের স্বার্থে এবং একাধিক গুরুতর মামলার তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে পুলিশ আদালতের কাছে দীর্ঘ মেয়াদের হেফাজত চায়। তবে সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর মহামান্য বিচারক অভিযুক্তকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এদিন আদালতে জাহাঙ্গীর খানের পক্ষে কোনও আইনজীবী সওয়াল করেননি বলে জানা গিয়েছে। ডায়মন্ড হারবার ক্রিমিনাল কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাঁর হয়ে কোনও আইনজীবী দাঁড়াতে রাজি হননি বলে সূত্রের দাবি।
পরে সরকারি লিগ্যাল এইডের তরফে এক আইনজীবী অভিযুক্তের পক্ষে সওয়াল-জবাব করেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের জামিনের আবেদনও করা হয়। কিন্তু আদালত সেই জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।
এই বিষয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিজেপি প্রার্থী তথা জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে মামলার আইনজীবী দেবাংশু পান্ডা বলেন, “আমি ফলতার বাসিন্দা হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলাম।
মহামান্য বিচারক সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বহু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।” জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু রয়েছে।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বাড়ি লুটপাট, মারধর, সন্ত্রাস সৃষ্টি, এমনকি খুনের মামলাও। এছাড়াও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে ২০২১ সালের একাধিক মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। পুলিশ সূত্রে খবর, পুরনো একাধিক মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতেই জাহাঙ্গীর খানকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।
বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ। আদালত চত্বরে মিষ্টিমুখ করার ঘটনাও সামনে আসে, যা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। বিজেপি নেতা গৌতম বাগ এদিন বলেন, “জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার হয়েছে, তাই আমরা মিষ্টিমুখ করছি। তবে ও যদি আবার বাইরে বেরিয়ে আসে, তাহলে উচ্ছে মুখ করাবো।”

