বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত ধূপগুড়ির জলঢাকা তীরবর্তী বাসিন্দারা

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ধূপগুড়ি :: বুধবার ২৪,জুন :: গত বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনও শুকোয়নি। প্রায় আট মাস আগে জলঢাকার ভয়ঙ্কর রূপে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছিল ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের হোগলারটারি, কুলাপাড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

৪ অক্টোবর জলঢাকার প্রবল স্রোতে ভেঙে গিয়েছিল নদীবাঁধ, গৃহহারা হয়েছিলেন বহু মানুষ। কিন্তু দীর্ঘ আট মাস কেটে গেলেও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের সংস্কার কাজ।সম্প্রতি পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির জেরে জলঢাকায় ফের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে এলাকায়।

বন্যার আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে বাসিন্দাদের। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় পৌঁছান ধূপগুড়ির মহকুমাশাসক শ্রদ্ধা সুব্বা, বিডিও সোমনাথ হালদার এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বন্যায় ঘরবাড়ি হারানোর পর সরকারি সহায়তা ও ঋণ করে কোনওরকমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন তাঁরা।

কিন্তু এলাকার সুরক্ষার জন্য যে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে, তা অত্যন্ত ধীরগতিতে এবং নিম্নমানের। এপ্রিল মাসে কাজ শুরু হলেও আপাতত বালি ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছে।

বৃষ্টির জলেই সেই বালি ধুয়ে সরে যাচ্ছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। এলাকার বাসিন্দা চম্পক নাগ বলেন, “একবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছি।

কিন্তু এলাকা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ভাঙনস্থলে ফেলা বালি বৃষ্টির জলে মোমের মতো গলে সরে যাচ্ছে। দ্রুত স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ না হলে আবার বন্যার মুখে পড়তে হবে।”

পূর্ববর্তী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এক বৃদ্ধার কথায়, “অনেক কষ্টে ঘরবাড়ি মেরামত করে থাকছি। আবার শুনছি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি।”

গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিজয়চন্দ্র রায় জানান, “টানা বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নির্মীয়মাণ বাঁধেরও ক্ষতি হয়েছে। মহকুমাশাসক ও বিডিওকে নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছি। দ্রুত বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করা প্রয়োজন। আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × three =