নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বাঁকুড়া :: রবিবার ১২,জুলাই :: দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়ে থাকা কাঁচা রাস্তার দুরবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে নিজেদের উদ্যোগেই রাস্তা মেরামতের কাজে হাত লাগালেন গ্রামের বাসিন্দারা।
ঘটনাটি বাঁকুড়া জেলার জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ ব্লকের আদিবাসী অধ্যুষিত খেড়িয়াশায় গ্রামের। গ্রামে প্রায় ৭০টি পরিবারের বসবাস। রাজাকাটা শিবমন্দির থেকে খেড়িয়াশায় গ্রামে ঢোকার প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাস্তার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। কাদা ও গর্তে ভরা রাস্তা দিয়ে চলাচল কার্যত দুর্বিষহ হয়ে ওঠায় বর্ষাকালের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে গ্রামের মানুষ নিজেরাই পাথর ও মোরাম ফেলে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত প্রায় ১৫ বছর তৃণমূল সরকারের আমলেও, তার আগে সিপিএম সরকারের সময়েও এই রাস্তা সংস্কারের জন্য কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তাঁদের বক্তব্য, বর্তমানে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র দু’মাস হয়েছে। তাই সরকারের উদ্যোগের জন্য অপেক্ষা না করে আপাতত নিজেদের সমস্যার সমাধানে নিজেরাই কাজে নেমেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সারা বছরই এই রাস্তার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্ষাকালে সেই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। বেহাল রাস্তার কারণে গ্রামে অ্যাম্বুল্যান্স বা অন্যান্য যানবাহন ঢুকতে চায় না। এই পথ দিয়েই খেড়িয়াশায় গ্রামের পড়ুয়ারা রানিবাঁধ উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।
পাশাপাশি জরুরি অসুস্থ রোগীদেরও এই রাস্তা দিয়েই রানিবাঁধ ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। ফলে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।
এবিষয়ে তৃণমূলের রানিবাঁধ ব্লকের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ চিত্তরঞ্জন মাহাতো বলেন, রাস্তাটি পাকা করার জন্য পঞ্চায়েতের তরফে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কাজও শুরু হয়।
তবে পরে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জানান, হঠাৎ বালির দাম বেড়ে যাওয়ায় টেন্ডারে নির্ধারিত অর্থে কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই রাস্তার নির্মাণকাজ মাঝপথে থমকে যায়।
অন্যদিকে বিজেপি জেলা সম্পাদক রানিবাঁধের দুঃখী মোদী দাবি করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে কাটমানির কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেননি। বর্তমানে নতুন সরকার এসেছে।
রানিবাঁধ বিধানসভা বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু (আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী) বলেন দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নতুন করে রি-টেন্ডার করে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

