নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: সোমবার ৪,মে :: দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভবানীপুরে ভোট গণনা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী-র মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ে বারবার পাল্টাচ্ছে লিড, ফলে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে।
সকাল থেকে গণনা শুরু হতেই কখনো এগিয়ে ছিলেন শুভেন্দু, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যবধান ঘুচিয়ে এগিয়ে যান মমতা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, এখনও একাধিক রাউন্ডের গণনা বাকি থাকায় চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে কিছুই নিশ্চিত নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কেন্দ্র ঐতিহ্যগত ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। ফলে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর পুনরায় লিড নেওয়াকে অনেকেই “কামব্যাক” হিসেবে দেখছেন। তবে বাস্তবে লড়াই এতটাই কাছাকাছি যে এটিকে সরাসরি কামব্যাক বলা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষে এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় ভবানীপুরে বিজেপির ভোট শতাংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রাথমিক প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতীয় জনতা পার্টি-র রাজ্য নেতৃত্বের মতে, ফল যাই হোক না কেন, এই লড়াই প্রমাণ করেছে যে শহুরে কেন্দ্রে দলটি আগের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।
তৃণমূল শিবির অবশ্য আশাবাদী। তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের দাবি, শেষ পর্যন্ত ব্যবধান বাড়বে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বচ্ছন্দ জয় পাবেন। এই আসনের ফলাফল শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ নয়—এটি রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হন, তবে তা হবে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করার ইঙ্গিত। অন্যদিকে, যদি শুভেন্দু অধিকারী চমক দেখাতে সক্ষম হন, তবে তা রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফল ঘোষণার অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য। ভবানীপুরের এই টানটান লড়াইই ঠিক করে দিতে পারে বাংলার রাজনীতির আগামী দিশা।

