ভারতে চিকিৎসা করাতে এসে বাংলাদেশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মৃত্যু, মরদেহ দেশে ফেরাতে আইনি জটিলতা

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: শীতলকুচি :: বৃহস্পতিবার ৬,আগস্ট :: মৃত ব্যক্তির নাম শৈলেন্দ্র নাথ মহন্ত (৬৪)। তিনি বাংলাদেশের রংপুর জেলার হাজীরহাট এলাকার কামদেবপুর, কেরিনিহাটের বাসিন্দা এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

পরিবারে স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছেন। বড় ছেলে পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের মুখ্য বিচারক, ছোট ছেলে শিক্ষক এবং দুই মেয়ে এখনও শিক্ষারত।

কিডনির জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতের বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে রওনা দিয়েছিলেন। এর আগেও ২০২২ সালে একই হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছিলেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী বুড়িমারী–চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে তিনি কুচবিহার জেলার শীতলকুচি ব্লকের আমতলা বড় মরিচা এলাকায় তাঁর ভাগ্নির বাড়িতে সাময়িক বিশ্রামের জন্য ওঠেন। সেখান থেকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ তাঁকে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ আগস্ট সকাল প্রায় ৮টায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এরপর পরিবারের সিদ্ধান্ত ছিল মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু তখনই শুরু হয় একের পর এক আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

মৃত ব্যক্তির নাতি শ্রী রঞ্জন মহন্ত হাসপাতাল থেকে মরদেহ ছাড়িয়ে নিতে গেলে তাঁকে জানানো হয়, প্রথমে থানার NOC (No Objection Certificate) প্রয়োজন। থানায় গেলে জানানো হয়, বিষয়টি বিদেশি নাগরিকের হওয়ায় কুচবিহার DIB (District Intelligence Branch)-এর অনুমতি লাগবে।

পরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, বিদেশি নাগরিকের মরদেহ নিজ দেশে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও প্রয়োজন।

এরপর মৃতের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কলকাতায় যান। ৫ আগস্ট বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনে (বিদেশি কূটনৈতিক দপ্তর) প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে তাঁকে আরও জানানো হয়, FRRO (Foreigners Regional Registration Office)-এর অনুমতিও নিতে হবে।

FRRO (Foreigners Regional Registration Office) হলো ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন একটি সংস্থা, যা ভারতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন, ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়, অবস্থানের নিয়মাবলি এবং বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু বা মরদেহ নিজ দেশে পাঠানোর মতো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নথিপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করে।

সেই অনুযায়ী তাঁরা FRRO অফিসে গিয়ে আরও একটি পৃথক অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেন। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি হাতে নিয়ে পরে তাঁরা আবার মাথাভাঙ্গায় ফিরে আসেন। এরপর পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, ভারতে চিকিৎসার জন্য আসা কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে মরদেহ নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হাসপাতাল, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক দপ্তর এবং FRRO-সহ একাধিক সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − one =