নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: শনিবার ০১,আগস্ট :: ভোট ফেরতের আবেদনে শোরগোল পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রে। বিধায়ক নিশীথ মালিক শিবির বদলানোয় তাঁকে দেওয়া ভোট ফেরত চাইছেন দুই ভোটার! তাঁদের পোস্ট করা আবেদনপত্র সমাজমাধ্যমে শোরগোল ফেলেছে।
ভোট ফেরত চাওয়া বর্ধমান উত্তর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ ভট্টাচার্য ও তাঁর স্ত্রী রুপালি আবেদনপত্রে লিখেছেন, তাঁরা গত বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী নিশীথ মালিককে। নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হলেও জিতেছেন নিশীথ।
তার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে তিনি যোগ দেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। সেই কারণেই নিশীথকে দেওয়া ভোট ফেরত চান ওই দম্পতি। সংবিধান বা জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে ভোট ফেরতের সংস্থান নেই।
তা সত্ত্বেও ওই দম্পতির সমাজমাধ্যমে এই পোস্ট করায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, আদতে ঋতব্রত-শিবিরের বিরুদ্ধে সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে এ ভাবেই।
ভোট ফেরতের আবেদনপত্রে ওই দম্পতি লিখেছেন, ‘আমাদের মহামূল্যবান ভোট দু’টি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে প্রদান করেছিলাম। ….
যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা দলে (বিধায়ক) নেই, তাই আমাদের ভোট দু’টি বাদ দিয়ে বিধায়কের প্রাপ্ত ভোট গণনা করা হেক।’ নিশীথ মালিককে ফোনে এই নিয়ে প্রশ্ন করায় তিনি বলেন, “আমি ওঁকে চিনি না। কাকে আবেদন করেছেন, সেটাও স্পষ্ট নয়।”
হঠাৎ কেন এমন পোস্ট? সন্দীপের বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘‘নিশীথ মালিক তিন বারের বিধায়ক। উনি শুধু নিজের কথা ভাবলেন, কর্মীদের কথা ভাবলেননা। আমরা সবাই দেখছি, ভোটের পরে কী ভাবে তৃণমূল কর্মীদের উপরে অত্যাচার চলছে। উনি (নিশীথ) নিজের পিঠ বাঁচাতে ব্যস্ত।
এসআইআরের প্রতিবাদে আমার স্ত্রী দিল্লি গিয়েছিল। ভোটের পরে আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমাদের দু’জনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। মঙ্গলবার জামিন পেয়েছি। আমাদের মতো অনেকের ভোট নিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন নিশীথ। যদি আইনে সংস্থান থাকে আমাদের ভোট ফেরত দেওয়া হোক।’’
জনপ্রতিনিধিদের শিবির বা দল বদলানোর বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ ভবিষ্যতে দলত্যাগ-বিরোধী আইনকে কঠোর করার দাবিকে শক্তিশালী করবে। এটা আদৌ সম্ভব না হলেও এই প্রশ্নটাই এখন বিধায়কের গলার কাঁটা।

