নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: গাইঘাটা :: শুক্রবার ১০,জুলাই :: মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে আবেদন করতেই বরুণ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় তৎপর হলো রাজ্য সরকার। গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে ভাইয়ের খুনের তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন বরুণের দাদা অসিত বিশ্বাস।
বৃহস্পতিবার গাইঘাটা বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে আসেন দুই সদস্যের সিআইডির প্রতিনিধি দল। এদিন দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস, দাদা অসিত বিশ্বাস সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সিআইডি আধিকারিকরা। এদিন দীর্ঘক্ষণ মৃত শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে ছিলেন তাঁরা।
এবিষয়ে বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভাইয়ের খুনের সঠিক বিচার পেতে আবেদন করে এসেছি। বিগত সরকার সেভাবে আমাদের আবেদনে সাড়া দেয় নি। নতুন সরকার আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়েছে। আমরা খুশি।
এদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টা বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে ছিলেন দুই সদস্যের সিআইডি আধিকারিক দল। জানা গিয়েছে, এদিন মত বরুণের সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন আধিকারিকরা। এছাড়াও নানা বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন তাঁরা।
বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস বলেন, আজ সিআইডি আধিকারিক রা এসেছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। আমরা সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। তাঁরা জানিয়েছেন তদন্তের উপর ভরসা রাখতে। আমরা তাঁদের কথায় আশ্বস্থ হয়েছি।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। সুটিয়া অঞ্চলে সংঘটিত ধারাবাহিক নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্যে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন।
এলাকার সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণে তিনি দ্রুত পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
তাঁর সেই আন্দোলন বহু নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছিল বলেও মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খুনের পুনঃতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় খুশি পরিবারের সদস্যরা।

