রেড রোড ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যকে নিশানা অধীরের, ‘মোদীর অনুষ্ঠানের জন্য সাত দিন রাস্তা বন্ধ, ঈদের নামাজে বাধা কেন?

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদপ্রবাহ :: কলকাতা :: বুধবার ১৭,জুন :: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কর্মসূচিকে ঘিরে কলকাতার রেড রোডে একাধিক দিনের বিধিনিষেধ আরোপ এবং অন্যদিকে ঈদের নামাজের জন্য একই স্থানে অনুমতি না মেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

এই ইস্যুতেই কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

এক সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রীর যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য যদি রেড রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রায় সাত দিন ধরে নিয়ন্ত্রিত বা কার্যত বন্ধ রাখা যায়, তাহলে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঈদের নামাজের অনুমতি দেওয়া হল না কেন?

প্রশাসনের সিদ্ধান্তে কি দ্বিচারিতা নেই?” অধীরের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা সামাজিক সমাবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের নীতি এবং অন্য ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি গ্রহণ করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

তিনি দাবি করেন, গণতান্ত্রিক দেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার সমানভাবে রক্ষা করা প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, “একদিকে সরকার সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলে, অন্যদিকে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে।

প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, কোন ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” অধীরের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

বিরোধী মহলের একাংশের দাবি, সরকারি অনুষ্ঠান উপলক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিয়ন্ত্রণ করা হলেও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই ধরনের নমনীয়তা দেখা যায় না।

অন্যদিকে শাসক শিবিরের নেতারা পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী-সহ ভিভিআইপি নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় এবং সেই কারণেই অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়ে থাকে।

প্রশাসনিক সূত্রের মতে, নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমাগমের পরিমাণ বিবেচনা করেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে বিরোধীদের দাবি, এই ব্যাখ্যা জনমানসে তৈরি হওয়া প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেড রোডকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে।

বিশেষত ধর্মীয় অধিকার, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা— এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই বিরোধীরা নতুন করে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করবে।

ফলে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রস্তুতির মাঝেই রেড রোড এখন রাজনৈতিক তরজার নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অধীর চৌধুরীর মন্তব্যকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাকযুদ্ধ আগামী কয়েক দিনে আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − nine =