নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: গঙ্গাসাগর :: রবিবার ২৪,মে ::
(সংবাদ প্রবাহের একটি অন্তর্তদন্ত করছেন আমাদের সাংবাদিক সুদেষ্ণা মন্ডল – আজ শেষ কিস্তি – উদ্ধার কোটি কোটি টাকার ত্রান সামগ্রী )
(প্রথম কিস্তির পর ) উদ্ধার হওয়া ত্রাণ সামগ্রী পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাগর বিডিও অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস ও সংরক্ষণের কারণ সম্পর্কে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
সরকারি সম্পত্তি বা ত্রাণ সামগ্রী কোনও অনিয়মের মাধ্যমে মজুত রাখা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও প্রশাসনের একাংশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির তোলা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও প্রাক্তন বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তাঁর বক্তব্য, এই সামগ্রী কোনওভাবেই বেআইনিভাবে মজুত রাখা হয়নি। বরং উৎসবের মরসুমে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের সাহায্য করার জন্যই এগুলি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল।
প্রশাসনকে আগেই বিষয়টি জানানো হয়েছিল। পরে সরকারি নিয়ম মেনেই প্রশাসনের প্রতিনিধিরা এসে সামগ্রীগুলি নিয়ে গিয়েছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন সরকার গঠনের পর বিজেপি নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন।
মানুষের প্রকৃত সমস্যার সমাধান না করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, “মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য ছিল এবং থাকবে। মিথ্যা অপপ্রচার করে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট না করে বিজেপির উচিত মানুষের উন্নয়নমূলক কাজের দিকে নজর দেওয়া।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুদ্রনগর এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
যদি সত্যিই সরকারি ত্রাণ সামগ্রী অনিয়ম করে মজুত রাখা হয়ে থাকে, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার অন্য অংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বিষয়টিকে বড় করে দেখানো হচ্ছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর জেলায় ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতে শুরু করায় বিভিন্ন পুরনো ইস্যু সামনে আসছে। রুদ্রনগরের এই ঘটনাও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতেরই অংশ বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে সত্যিই কোনও অনিয়ম হয়েছে, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক তরজা— তার উত্তর মিলবে প্রশাসনিক তদন্তের পরই। বর্তমানে পুরো বিষয়টির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ ।


বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা বলেন, “ত্রিপল ও জামাকাপড়ের একটি বড় অংশ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিওর তরফ থেকে দেওয়া হয়েছিল। এলাকার গরিব মানুষের মধ্যে বিলির উদ্দেশ্যেই সেগুলি রাখা ছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে আদর্শ আচরণবিধি বা MCC কার্যকর হয়ে যাওয়ায় সেই সময় আর বণ্টন করা সম্ভব হয়নি।