নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কৃষ্ণগঞ্জ :: বৃহস্পতিবার ৬,আগস্ট :: শাশুড়িকে এলোপাথাড়ি ধারালো অস্ত্রের কোপ জামাইয়ের। শাশুড়ি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে। ঘটনাটি বুধবার রাতে নদিয়ার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের কৃষ্ণগঞ্জের ভাজনঘাট বাসস্ট্যান্ডের ঘটনা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই থানা এলাকার চন্দননগরের বাসিন্দা সুমিত্রা ঘোষ বিগত ৭ বছর আগে ওই থানা এলাকার গোবিপুর গ্রামের বাসিন্দা অমিত ঘোষ কে পারিবারিক দেখাশোনার মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তিনি বুঝতে পারেন তার স্বামী মদ্যপ এবং একাধিক নারীর সাথে পরকীয়াতে যুক্ত।
বিয়ের পর থেকেই তার ওপর চলতে থাকে অমানুষিক ও পাশবিক নির্যাতন । অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন আগে তিনি শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে আসেন এবং কৃষ্ণগঞ্জ থানায় বধূ নির্যাতন এবং বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন।
সেই ঘটনার রেশ ধরেই বুধবার রাতে তার স্বামী অমিত ঘোষ এবং তার বড় ভাসুর সমীর ঘোষ যৌথভাবে মদ্যপ অবস্থায় হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়।মৌমিতা ঘোষকে হাঁসুয়া দিয়ে মাথার উপর এলোপাতাড়ি কোপ মারতে থাকে । রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে ঘরের মেঝেতে ।
চিৎকার শুনে মৌমিতা ঘোষের মা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং মেয়েকে সরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। সেই সময় জামাই অমিত ঘোষ হাসুয়া দিয়ে শাশুড়ি সুমিত্রা ঘোষকে মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কোপায়। এরপর হাঁসুয়া ফেলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সুমিত্রা ঘোষ কে প্রথমে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ হাসপাতালে আসে । পুলিশ সূত্রে খবর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরুর পাশাপাশি দোষীদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি।

