নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: শিলিগুড়ি :: বৃহস্পতিবার ২৩,এপ্রিল :: ভোটের দিন সকালেই শিলিগুড়ির ভারতনগর এলাকায় ‘ছাপ্পা ভোট’-এর অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ, প্রথম ভোটার হিসেবে বুথে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি স্থানীয় বাসিন্দা কাজল দাস। তাঁর দাবি, বুথে পৌঁছনোর আগেই তাঁর নামে ভোট পড়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোট শুরু হতেই কাজল দাস ভোট দিতে বুথে যান। কিন্তু ইভিএমে তাঁর ভোট আগেই ‘কাস্ট’ হয়ে গিয়েছে বলে জানানো হয়। এতে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দেয়।
কাজল দাসের অভিযোগ, “আমি প্রথম ভোটার হিসেবে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অথচ বুথে ঢুকে শুনলাম আমার ভোট আগেই পড়ে গেছে। এটা কীভাবে সম্ভব?”
জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার উৎসাহ নিয়ে বুথে পৌঁছে তিনি শোনেন, তাঁর ভোট ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়ে গিয়েছে।
হতভম্ব কাজল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘এত নিরাপত্তা থাকার পরেও কী করে একজনের ভোট অন্যজন দিতে পারলেন জানি না। আরও অনেক কিছু হতে পারে।
প্রথম ভোটটা দিতে পারলাম না, খুব খারাপ লাগছে।’ পরে অবশ্য এখানে এসে শংকর ঘোষ কাজল কে সঙ্গে নিয়ে বুথ যান কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি |
অন্যদিকে ওয়ার্ডের ৪৯ নম্বর বুথে ভোট দিতে গিয়ে স্থানীয় এক ভোটার রাকেশ সাহানী জানতে পারেন, তাঁর নামের পাশে ইতিপূর্বেই টিক পড়ে গিয়েছে, অর্থাৎ তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গিয়েছে।

ভোটার রাকেশ সাহানী
নিজের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে শুনেই বুথের ভেতর প্রতিবাদ জানান রাকেশ। এই খবর বাইরে আসতেই তাঁর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পৌঁছে যান গৌতম দেবও
এই ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। ভোটারদের একাংশের অভিযোগ, বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল না। যদিও সামগ্রিকভাবে শিলিগুড়ি এলাকায় ভোটের আগে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ভোটার তালিকা ও ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি ভোটের আগের দিন পরিবহণ সংকট ও ভোটারদের ভোগান্তির ঘটনাও সামনে এসেছে
এদিকে, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনো পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন -এর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, “এটি গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং সংগঠিত ভোট জালিয়াতির ইঙ্গিত।” অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, “বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।”
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বজায় রয়েছে। ভোটের দিনে এমন অভিযোগ সামনে আসায় নির্বাচন ব্যবস্থার উপর আস্থা নিয়েই বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

