সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: ফলতা :: বৃহস্পতিবার ১৮,জুন :: ফলতা বিধানসভার কলাতলা হাট এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর নাম সুশান্ত মণ্ডল (৪৫)। অভিযোগ, বুধবার গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী তাঁর উপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ডায়মন্ড হারবার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো বুধবারও কলাতলা হাট এলাকায় তাঁর দাদার চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে বসেছিলেন সুশান্ত মণ্ডল।
অভিযোগ, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। হামলাকারীরা আচমকা তাঁর উপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ। মারধরের জেরে তিনি গুরুতর জখম হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এরপর তাঁরা আহত সুশান্ত মণ্ডলকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং পরে ডায়মন্ড হারবার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর আক্রান্তের পরিবারের পক্ষ থেকে ফলতা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা শক্তি দলুই বলেন, “সুশান্ত তাঁর দাদার ডাক্তারখানার সামনে বসেছিল। রাতের দিকে কয়েকজন দুষ্কৃতী সেখানে এসে হঠাৎ করে তার উপর হামলা চালায়। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।”
বিজেপির স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের দাবি, হামলার সঙ্গে এলাকার তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা জড়িত। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ফলতার ফতেপুর এলাকায় একটি জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শন করেছিলেন। তার পরদিনই বিজেপি কর্মীর উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হোক এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক।
অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ।

