সোমবার সকালে আচমকাই কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজির হন সোনা পাপ্পু

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: সোমবার ১৯,মে :: সোমবার: দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ হিসেবে পরিচিত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-কে ঘিরে জোর জল্পনা চলছিল।

অবশেষে সোমবার সকালে আচমকাই কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজির হন তিনি। তবে এটি আদৌ আত্মসমর্পণ কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। �

ইডি সূত্রে খবর, জমি দখল, তোলাবাজি, আর্থিক লেনদেন এবং অস্ত্র আইনের একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তের কেন্দ্রে ছিলেন সোনা পাপ্পু।

                                                      সিজিও কমপ্লেক্সে ঢুকছে সোনা পাপ্পু 

গত কয়েক সপ্তাহে তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী, প্রোমোটার এবং কলকাতা পুলিশের একাধিক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই আবহেই হঠাৎ তাঁর সিজিও কমপ্লেক্সে উপস্থিতি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় প্রশাসনিক মহলে।

তবে ইডি দফতরে ঢোকার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে সোনা পাপ্পু দাবি করেন, তিনি “আত্মসমর্পণ করতে আসেননি”, বরং তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে “দেখা করতে” এসেছেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার একাংশের মতে, ক্রমবর্ধমান চাপ এবং একাধিক সহযোগীর গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি সামাল দিতেই তিনি স্বেচ্ছায় হাজির হয়েছেন।

উল্লেখ্য, সোনা পাপ্পু মামলায় ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে একাধিকবার তলব করেছে ইডি। অভিযোগ, বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার ও সোনা পাপ্পুর আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই পুলিশের কিছু আধিকারিকের নাম উঠে এসেছে তদন্তে। এমনকি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে।

ইডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি ও প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখলের অভিযোগে একাধিক নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন প্রোমোটার ও ব্যবসায়ীর সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগের তথ্য মিলেছে তদন্তে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এতদিন “অদৃশ্য” থাকার পর আচমকা সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়া প্রমাণ করছে যে তদন্তের চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। যদিও সোনা পাপ্পুর আইনজীবী মহল দাবি করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতেই এসেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × two =