নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শুক্রবার ১৫,মে :: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার আচমকাই শহরের অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতাল এস এস কে এম পরিদর্শনে যান। দুপুরের পর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছতেই প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ে।
হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি, কথা বলেন চিকিৎসক, নার্স এবং রোগীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, চিকিৎসা ব্যবস্থার চাপ এবং রোগী পরিষেবার মান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে খোঁজখবর নেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ট্রমা কেয়ার ইউনিট এবং সুপার স্পেশালিটি ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সরকারি হাসপাতাল মানেই সাধারণ মানুষের শেষ ভরসা। এখানে পরিষেবার কোনও ঘাটতি বরদাস্ত করা হবে না।”
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক বার্তা দিতে চেয়েছেন। প্রথমত, স্বাস্থ্য দফতরের কাজকর্মে আরও নজরদারি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, রোগী পরিষেবার ক্ষেত্রে গাফিলতি বা দুর্নীতির অভিযোগে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।
রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘোরানোর হয়রানিমূলক ‘রেফার-সংস্কৃতি’ চিরতরে বন্ধ করতে সরাসরি ময়দানে নামলেন তিনি।
শুক্রবার কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিকর্তা এবং শহরের সমস্ত মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই একগুচ্ছ কড়া প্রশাসনিক দাওয়াই দিয়েছেন তিনি ।
হাসপাতালগুলির প্রতিদিনের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে স্বাস্থ্যভবনে একটি হাইটেক ‘ওয়াররুম’ তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ওয়াররুমের সরাসরি ডিজিটাল লিঙ্ক থাকবে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে, যার মাধ্যমে তিনি নিজেই গোটা রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর রিয়েল-টাইম নজরদারি চালাবেন।
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রতিটি হাসপাতালে কতগুলি বেড খালি রয়েছে, তার লাইভ হিসাব দেখানোর জন্য ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন।
তিনি নাকি স্বাস্থ্য আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “মানুষের চিকিৎসা নিয়ে কোনও রকম অবহেলা চলবে না। প্রয়োজন হলে দায় নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার প্রেক্ষিতে এই পরিদর্শন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসনের সক্রিয় ভাবমূর্তি তুলে ধরাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধুমাত্র আকস্মিক পরিদর্শন নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক এবং স্বচ্ছ করে তুলতেই ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

