আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: বসিরহাট :: বৃহস্পতিবার ১৪,মে :: প্রায় দেড় দশক পরে ফের কলকাতায় পা রাখতে চলেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও । ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিনটন কলকাতা সফরে এসে রাজ্য প্রশাসন ও শিল্পমহলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

তৎকালীন মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিনটন
এবার ১৪ বছর পর ফের আমেরিকার শীর্ষ কূটনীতিকের সম্ভাব্য কলকাতা সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে—তাহলে কি বিশ্বমঞ্চে কলকাতার গুরুত্ব আবার বাড়ছে?
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে কলকাতার কৌশলগত গুরুত্ব গত কয়েক বছরে অনেকটাই বেড়েছে।
বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কলকাতা এখন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণেও কলকাতার অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমী শক্তিগুলি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে কেবল প্রতিরক্ষা বা বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং চীনের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির পাশাপাশি ভারতের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শহরগুলির উপরও নজর বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।

ভারত মহাসাগরে ভারতীয় নৌ বাহিনী চিনের নজরদারিতে
২০১২ সালে হিলারি ক্লিনটনের কলকাতা সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। সেই সফরে তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সময় কলকাতাকে পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।
এবার মার্কো রুবিয়োর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে কলকাতার আন্তর্জাতিক পরিকাঠামো। শহরের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র, বন্দর, বিমান যোগাযোগ এবং পূর্ব ভারতের ব্যবসায়িক হাব হিসেবে কলকাতার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বিদেশি কূটনীতিকদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে বলেই মত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।
বিশেষত বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যুতে কলকাতা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ আবার মনে করছেন, মার্কিন প্রশাসন এখন ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে।
সেই কারণেই দিল্লির বাইরে কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু কিংবা মুম্বইয়ের মতো শহরগুলিকেও কূটনৈতিক আলোচনার পরিসরে আনা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, মার্কো রুবিয়োর সম্ভাব্য কলকাতা সফর শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির মানচিত্রে কলকাতার গুরুত্ব বৃদ্ধিরও স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

