BREAKING NEWS :: সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি চলল — অক্ষত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট – চাঞ্চল্য মার্কিন রাজনীতিতে

বিদেশ ডেস্ক  :: সংবাদ প্রবাহ :: ওয়াশিংটন  ::  রবিবার ২৬,এপ্রিল ::  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর উপস্থিতিতে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে হঠাৎ গুলির ঘটনার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক চলাকালীন এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে, এই ঘটনায় ট্রাম্প সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে নিরাপত্তা সংস্থা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অনুষ্ঠান চলাকালীন আচমকাই এক ব্যক্তি অস্ত্র বের করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে অভিযুক্তকে কাবু করে ফেলে। ঘটনাস্থলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, হামলাকারীর হাতে একটি শটগান ছিল। রুশ সংবাদমাধ্যম এবং পরবর্তীতে স্বয়ং ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযুক্তের ছবি প্রকাশ করেছেন। প্রাপ্ত ছবিতে হামলাকারীকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় নিরাপত্তা বাহিনীর ঘেরাটোপে দেখা গেছে।
ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ হ্যান্ডেলে জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘ওয়াশিংটনে এক ভয়ংকর রাত কাটল। সিক্রেট সার্ভিস এবং পুলিশ দুর্দান্ত কাজ করেছে। ফার্স্ট লেডি, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ক্যাবিনেটের সকল সদস্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন।’
সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি না ঘটলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বলয়ে এই ছিদ্র বড়সড়ো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এফবিআই (FBI)-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, হামলাকারী এক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে  লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত সেই এজেন্ট সুরক্ষিত জ্যাকেট পরে থাকায় কোনও আঘাত পাননি।
নিরাপত্তা সূত্রে খবর, হামলাকারীর উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নাকি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ঘিরে তীব্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং উপস্থিত সকলকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
একাধিক সাংবাদিক জানান, পুরো ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যায়। “আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম আতশবাজির শব্দ, কিন্তু পরে বুঝতে পারি পরিস্থিতি গুরুতর,” বলেন এক উপস্থিত সংবাদকর্মী।
ঘটনার পর United States Secret Service এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ নিরাপদ। দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় কোনও ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”
এই ঘটনার পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নির্বাচনী আবহে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই ঘটনার বিষয়ে এখনও সরকারি পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেক তথ্যই যাচাইসাপেক্ষ বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 11 =