নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: মাথাভাঙ্গা :: রবিবার ২৭,এপ্রিল :: কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা শহরের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে মানসাই নদীর তীরবর্তী ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর ও ছাটখাটের বাড়ি এলাকায় রহস্যজনক ভাবে ঢিল পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচালী দাসের বাড়িতে গতকাল গভীর রাত থেকে হঠাৎ করেই অজ্ঞাত উৎস থেকে ঢিল পড়া শুরু হয়। মাঝরাত পর্যন্ত এই ঘটনা চলতে থাকে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, আজ রবিবার দুপুর ১২টা নাগাদ আবারও দিনের আলোয় একইভাবে ঢিল পড়তে শুরু করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢিল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়, কিন্তু কোথা থেকে এই ঢিল ছোড়া হচ্ছে, তার কোনও হদিশ এখনও মেলেনি। পড়ে থাকা পাথরগুলির আকার ও প্রকৃতি দেখে অনুমান করা হচ্ছে, সেগুলি নিকটবর্তী একটি নির্মীয়মান ভবন থেকে আসতে পারে।
যদিও স্থানীয় যুবকেরা দাবি করেছেন, তারা গতরাতেই ওই ভবনের ছাদ ও আশপাশে পাহারা দিয়েছিলেন, এমনকি গাছের উপর উঠে নজরদারিও চালানো হয়—তবুও কোনও সন্দেহভাজনকে ধরা যায়নি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে গতকাল রাতে আধাসামরিক বাহিনী ও মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারারাত পাহারা দেয়। তবুও সমস্যার কোনও সুরাহা হয়নি। আজ আবার দিনের বেলায় একই ঘটনা ঘটায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এলাকার আরেক বাসিন্দা বল দাসের বাড়িতেও কিছুদিন আগে একইভাবে ঢিল পড়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর থেকে তাঁর স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানা গেছে। আতঙ্কে তিনি রাতে ঘুমোতে পারছেন না, এমনকি স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে কাচালি দাসের বাড়িতে ঢিল পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি চরমে। কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই আবারও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে, এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে। রহস্যময় এই ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও অজানা থাকায় এলাকায় কৌতূহল ও আতঙ্ক—দু’টিই বাড়ছে।

