নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বৃহস্পতিবার ৭,মে :: রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে তীব্র নাটকীয়তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি — এমন জল্পনা ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি।
সাংবিধানিক সময়সীমা অতিক্রান্ত। ঠিক পাঁচ বছর আগে এই দিনেই তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আজ থেকেই পদাধিকার বলে আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রইলেন না তিনি।
তবে সমস্ত জল্পনার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনও পদত্যাগ করছেন না। তাঁর এই অবস্থানের ফলে রাজ্যে তৈরি হয়েছে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। নবান্ন সূত্রে খবর, প্রশাসনিক স্তরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই চাপ বাড়ছিল।
বিরোধী শিবিরের দাবি, “সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নে সরকার নৈতিক ভিত্তি হারিয়েছে।” যদিও শাসকদল তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মানুষ আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। আমি জনগণের রায় ছাড়া কোনও চাপের কাছে মাথা নত করব না। পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।”
এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বিরোধীদের একাংশ অভিযোগ করেছে যে প্রশাসনিক বাস্তবতা বদলে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতা ছাড়তে চাইছেন না। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং সরকার এখনও সাংবিধানিকভাবে বৈধ।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের প্রশ্ন সামনে আসে। সেক্ষেত্রে রাজ্যপালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই রাজভবন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে সূত্রের খবর।
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বহু রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবারকার পরিস্থিতিকে অনেকেই “সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ” বলে মনে করছেন। কারণ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, দলীয় ঐক্য এবং সাংবিধানিক বৈধতা— তিনটি বিষয়ই এখন সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কোথাও মমতার সমর্থনে মিছিল হয়েছে, আবার কোথাও বিরোধীরা তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েকদিন বাংলার রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এখন দেখার, এই অচলাবস্থা কোন পথে এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে কে ?

