মাধ্যমিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়জয়কার – প্রথম দশে নরেন্দ্রপুরের সাত ছাত্র

সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: দক্ষিণ ২৪ পরগনা :: শুক্রবার ৮,মে :: মাধ্যমিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়জয়কার, প্রথম দশে নরেন্দ্রপুরের সাত ছাত্র ।জয়নগর ও সোনারপুরের পড়ুয়াদেরও দুর্দান্ত সাফল্য চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে ।

যখন মেধাতালিকা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে, তখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক স্কুল নজর কেড়েছে অসাধারণ সাফল্যে। বিশেষ করে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয় এবারের মেধাতালিকায় কার্যত আধিপত্য বিস্তার করেছে। প্রথম দশের মধ্যে এই বিদ্যালয়ের সাতজন ছাত্র জায়গা করে নিয়েছে ।

জেলার শিক্ষামহলে গর্বের আবহ তৈরি করেছে। পাশাপাশি সোনারপুর ও জয়নগরের ছাত্রছাত্রীরাও উল্লেখযোগ্য ফল করে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের ছাত্র সৌর জানা। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী সৌর নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি সময় মেনে প্রস্তুতি নিয়েছিল। তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক এবং সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার নেমেছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে একই বিদ্যালয়ের সমন্তক কুণ্ডু। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩।

পরীক্ষার আগে ধারাবাহিক অনুশীলন এবং শিক্ষকদের পরামর্শই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে জানিয়েছে সমন্তক। সপ্তম স্থান দখল করেছে সমজ্যোতি দাস, যার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১। শান্ত স্বভাবের এই ছাত্রের সাফল্যে খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষও।

এছাড়া যুগ্মভাবে অষ্টম স্থান অর্জন করেছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের দুই ছাত্র জীবিতেশ কায়াল ও সৌম্যকান্ত কুইল্যা। দু’জনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০। নবম স্থানে রয়েছে ঐশিক চক্রবর্তী, তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯। দশম স্থান দখল করেছে অনুরাগ মণ্ডল, যার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৮।

একই স্কুলের এতজন ছাত্রের একসঙ্গে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকেরা। শুধু নরেন্দ্রপুরই নয়, সোনারপুর থেকেও এসেছে বড় সাফল্যের খবর। সোনারপুর সারদা বিদ্যাপীঠের ছাত্রী বিদিশা হালদার ৬৯২ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে।

মেয়ের এই সাফল্যে গর্বিত পরিবার। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, বিদিশা বরাবরই অত্যন্ত পরিশ্রমী ও নিয়মানুবর্তী ছাত্রী ছিল। অন্যদিকে, জয়নগর থেকেও এবারের মাধ্যমিকে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে দুই ছাত্র। জয়নগর জেএম ট্রেনিং স্কুলের ছাত্র মৈনাক চক্রবর্তী ৬৯০ নম্বর পেয়ে অষ্টম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

মৈনাকের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া গোটা এলাকাজুড়ে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, পড়াশোনার প্রতি তার একাগ্রতা এবং নিয়মিত প্রস্তুতিই তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণ বারাসত শিবদাস আচার্য হাই স্কুলের ছাত্র অয়ন হালদার ৬৮৮ নম্বর পেয়ে দশম স্থানে রয়েছে। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে এই সাফল্য অর্জন করায় এলাকায় অয়নকে নিয়ে গর্বের শেষ নেই। তার পরিবারও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায় অয়ন।

এবারের মাধ্যমিকের ফলাফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ছাত্রছাত্রীরা যে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছে, তা নিয়ে শিক্ষামহলে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। জেলার একাধিক স্কুলের ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে, সঠিক পরিশ্রম ও শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা থাকলে গ্রাম কিংবা শহর—যে কোনও জায়গা থেকেই উঠে আসতে পারে রাজ্যের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 13 =