নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শনিবার ৯,মে :: শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হতেই আর এক মুহূর্তও নষ্ট করলেন না নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী। রাজভবনের আনুষ্ঠানিকতা মিটিয়ে সরাসরি প্রশাসনিক কাজে মন দিলেন তিনি।
কলকাতার ময়দানে অস্থায়ী পি ডব্লিউ ডি টেন্টেই বসে গেল প্রথম উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।

সংঘমিত্রা ঘোষ:: স্বরাস্ট্র সচিব
সূত্রের খবর, শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক রদবদল, জেলাভিত্তিক পরিস্থিতি এবং নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন— “সরকারের প্রথম কাজ মানুষের আস্থা ফেরানো এবং প্রশাসনকে সক্রিয় করা।” ময়দানের বিশেষভাবে তৈরি পি ডব্লিউ ডি টেন্টে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক।
বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির রিপোর্ট পেশ করেন স্বরাষ্ট্র সচিব। বিশেষ করে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি, সংবেদনশীল এলাকা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর। মুখ্য সচিব নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের খসড়াও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
শিল্প, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ রাস্তা, স্বাস্থ্য ও আইন-শৃঙ্খলা— এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে আপাতত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে নির্দেশ দেন, কোনও সরকারি প্রকল্পে কাজের গতি যাতে কমে না যায় সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রেও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ইঙ্গিত দেন তিনি।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “মানুষ আমাদের উপর ভরসা রেখেছেন। সেই দায়িত্ব পালন করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ। প্রশাসনকে মানুষের জন্য আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, শপথের দিনই প্রশাসনিক বৈঠক করে নতুন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে সরকার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কর্মপন্থা নিতে চলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকেও দ্রুত সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। সেখানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন এবং বিভিন্ন দফতরের কাজের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।

