প্রথম দিনেই শাসক বিরোধী স্লোগানে রণক্ষেত্র বিধানসভা – ক্ষনিকের ওয়াক আউট – পরে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হলেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শুক্রবার ১৫,মে :: শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ হিসেবে শপথ নিলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ   বসু । ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সর্বসম্মতিক্রমে এবং ধ্বনিভোটে জয়ী হন তিনি।

এদিন বিধানসভা শুরুতেই দায়িত্ব নিয়ে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে এখন থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যাবলি সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি বা লাইভ সম্প্রচার করা হবে।

এর ফলে মানুষ নিজের চোখে বিধায়কদের আচরণ এবং সরকারের কাজের পদ্ধতি দেখতে পাবেন। বক্তব্য রাখতে উঠে শুভেন্দু অধিকারী পূর্বতন সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতাকে ১১ মাস বাইরে রেখে বা কোনো সদস্যকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়ে বিধানসভা চালানোর সংস্কৃতিতে আমরা বিশ্বাসী নই।”

অধিবেশন শুরু হতেই শাসক দল বিজেপির বিধায়করা ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগানে কক্ষ মুখরিত করেন। পালটা প্রতিরোধে সরব হন তৃণমূল বিধায়করাও। তাদের কণ্ঠ থেকে ভেসে আসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান।

এরপরেই পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় যখন বিজেপি বিধায়করা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ এবং ‘ফাইল চোর মমতা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিধানসভা চত্বর পরিণত হলো রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে।

পালটা আক্রমণ শানাতে দেরি করেনি তৃণমূলও। সিএস এবং প্রশাসনের একাংশকে ব্যবহার করে ‘ভোট লুটের’ গুরুতর অভিযোগ তুলে সুর চড়ান বিরোধী বিধায়করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দিনের এই স্লোগান-পালটা স্লোগান এবং ‘বন্দে মাতরম’ বনাম ‘জয় বাংলা’র লড়াই স্পষ্ট করে দিল যে রাজ্যের সংসদীয় সংস্কৃতিতে এক নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে।

শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই চরম সংঘাত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে বিধানসভার অন্দরমহলে লড়াই আরও কয়েক গুণ তীব্র হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − seven =