নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ক্যানিং :: শনিবার ১৬,মে :: ক্যানিংয়ে ফের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা তথা ক্যানিং ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উত্তম দাসের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে। তিনি ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের দাদা বলেই পরিচিত।
বিশেষ তাৎপর্যের বিষয়, ক্যানিং থানার তৎকালীন আইসি সাসপেন্ড হওয়ার পর নতুন আইসি দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই গ্রেফতারি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে ক্যানিংয়ের নিজ বাড়ি থেকেই উত্তম দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের সময় এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উত্তম দাসের বাড়ির চারপাশ ঘিরে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েকদিন ধরেই ক্যানিংয়ে ভোট-পরবর্তী হিংসা ও অশান্তি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
বর্তমান শাসক দলের অভিযোগ ছিল, এলাকায় একাধিক হামলা, ভাঙচুর এবং ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটলেও পুলিশ তৃণমূলের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। অভিযোগের তির উঠেছিল ক্যানিং থানার তৎকালীন আইসি অমিত কুমার হাতির বিরুদ্ধে।
ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছিল না। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে রাতভর ক্যানিং থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
থানা চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। এরপরই প্রশাসনিক স্তরে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল ক্যানিং থানার আইসি অমিত কুমার হাতিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর সামনে আসে।
আর সেই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন আইসি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জোরদার অভিযান শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।

