নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: গঙ্গাসাগর :: শনিবার ১৬,মে :: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একের পর এক রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দলবদল,
দলীয় কার্যালয় দখল এবং অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগের আবহের মধ্যেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরের বামনখালি এলাকায় এক তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস রাতারাতি মন্দিরে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ জুন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বামনখালির ওই দলীয় কার্যালয়টি কার্যত বন্ধ অবস্থায় ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা দলীয় জমায়েত দেখা যায়নি।
তবে শনিবার সকালে আচমকাই এলাকার মানুষ দেখতে পান, বহুদিনের সেই রাজনৈতিক কার্যালয়ে ধুমধাম করে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পার্টি অফিসের পুরনো চেহারা বদলে সেটিকে ‘বড় ঠাকুর’ ও ‘শ্যামা মন্দির’-এ রূপান্তরিত করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
মন্দিরে পুজো, প্রসাদ বিতরণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজেপি আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী জোরপূর্বক তাদের দলীয় কার্যালয়টি দখল করে নেয়।
এরপর পরিকল্পিতভাবে সেটিকে মন্দিরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এলাকায় এমন এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল যে দলের কর্মী-সমর্থকেরা ওই কার্যালয়ে যাওয়ার সাহস পর্যন্ত পাননি।
সাগর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল অমিত শাহ অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বামনখালি এলাকায় এটি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ছিল।
ফল ঘোষণার পর অতিউৎসাহী বিজেপি কর্মীরা সেটি দখল করে মন্দির বানিয়ে দিয়েছে। আমরা এই ধরনের রাজনীতির বিরোধিতা করছি। ধর্মকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা হচ্ছে।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরাই স্বেচ্ছায় ওই পার্টি অফিসের চাবি তাদের হাতে তুলে দেন।
পরে বিজেপি সেটি নিজেদের দখলে না রেখে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেয়। বিজেপির আরও দাবি, স্থানীয় বাসিন্দারাই সেখানে মন্দির গড়ার উদ্যোগ নেন।
পুজোর উদ্যোক্তা ও স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের একাংশের বক্তব্য, ওই স্থানের পাশে দুটি স্কুল থাকায় বহুদিন ধরেই এলাকায় একটি মন্দিরের প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। বর্তমানে পরিস্থিতি বদলানোর পর সাধারণ মানুষ নিজেরাই মন্দির গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে দাবি তাঁদের।

