তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির নামে তোলাবাজি, বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বন্ধ হল অবৈধ টোল দুর্গাপুরে

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: দুর্গাপুর :: শনিবার ১৬,মে :: পঞ্চায়েত সমিতির নামে তৃণমূলের ‘অবৈধ’ টোল ট্যাক্স বন্ধ হল বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই। বছরের পর বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে চলছিল টোল আদায়।

চার চাকার গাড়ি পিছু ২০ টাকা এবং বড় গাড়ির ক্ষেত্রে ৫০ টাকা বা আরো বেশি টাকা নেওয়া হতো বলে অভিযোগ।

দুর্গাপুর-ফরিদপুরের ধবনী এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতির নামে এই টোল ট্যাক্স চালাতেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা, এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাত-আট বছর আগে একবার টেন্ডার হলেও পরে আর নতুন করে কোনও টেন্ডার হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতার দাবি, “টেন্ডার শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও সামান্য কিছু টাকা দিয়েই মেয়াদ বেড়ে যেত। আর জোর জুলুম করে চলত টোল আদায়। অভিযোগ, প্রতিবাদ করলেই হুমকি দেওয়া হতো। এমনকী আদায় হওয়া বেশিরভাগ টাকায় নেতাদের পকেটে চলে যেত।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে টোল আদায়ের বৈধতা ঘিরে। যে রাস্তায় টোল নেওয়া হতো, সেটি পূর্ত দপ্তরের অধীন বলে জানা গিয়েছে। তাহলে পঞ্চায়েত সমিতি কীভাবে সেখানে টোল আদায়ের অনুমতি দিল। ৪ তারিখ রাজ্যে বিজেপির জয়ের পরই আচমকা বন্ধ হয়ে যায় ওই টোল আদায়।

তারপর থেকে আর কাউকে দেখা যায়নি টোল এলাকায়।একইভাবে হেতেডোবা এলাকায় চলা আরেকটি টোল ট্যাক্সও বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগেই বন্ধ হয়ে যায়। সরপি এলাকাতেও আরেকটি টোল ট্যাক্স চলতো সেটিও বন্ধ হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে তীব্র নিশানা করেছেন আসানসোল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শ্রীদীপ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে তোলা আদায় করত। জোর করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হতো।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হওয়ার পর অবৈধ কাজকর্ম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই এখন তৃণমূল নেতারা ভয়ে পালিয়েছে।” যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন দুর্গাপুর-ফরিদপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কল্যাণ শো মন্ডল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × five =