নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ডায়মন্ডহারবার :: রবিবার ১৭,মে :: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম জেলা সফরেই প্রশাসনিক কড়াকড়ির স্পষ্ট বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার তাঁর জেলা সফর শুরু হল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডায়মন্ড হারবার থেকে, যা দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
বিশেষত, এই এলাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র হওয়ায় প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শনিবার সকালে ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি যান সরকারি পর্যটন আবাস ‘সাগরিকা’-য়।
সেখানেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার জেলাশাসক, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার, বিভিন্ন মহকুমার আধিকারিক এবং জেলার সমস্ত থানার পুলিশ আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালও।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোট-পরবর্তী হিংসা, সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ, বেআইনি ব্যবসা রোধ এবং সরকারি পরিষেবার গতি বৃদ্ধি।
গত কয়েক বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, সন্ত্রাস এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ সামনে এসেছে।
বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা নিয়ে বিরোধীদের তরফে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক আধিকারিকদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে শুনতে হবে। তাঁর কথায়, “পুলিশ সব স্তরের মানুষের জন্য। কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।”
তিনি ইঙ্গিত দেন, অতীতে প্রশাসনের একাংশ বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু নতুন প্রশাসনে সেই পরিস্থিতি বরদাস্ত করা হবে না।
উল্লেখযোগ্যভাবে, শুক্রবার বিধানসভায় ডায়মন্ড হারবার ও সংলগ্ন এলাকায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন স্থানীয় বিধায়ক পান্নালাল হালদার। সেই ঘটনার পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্রের খবর, ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

