নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: মেমারি :: মঙ্গলবার ১৯,মে :: পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি স্টেশন চত্বরের রেল জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা শতাধিক ব্যবসায়ীর চোখে এখন শুধুই অনিশ্চয়তার ছায়া।
বারবার আবেদন অনুরোধ, চোখের জল—কিছুতেই মেলেনি স্থায়ী সমাধান। মিলেছে শুধু নোটিশ আর সময়সীমা। কিন্তু পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি বলেই জানালেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার ছিল রেলের দেওয়া শেষ সময়সীমা। নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান সরিয়ে না নিলে বুলডোজার চালিয়ে সব গুড়িয়ে দেওয়া হবে। সেই কারণেই আজ বহু ব্যবসায়ী নিজেদের হাতেই বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা দোকানঘর ভেঙে সরিয়ে নিতে বাধ্য হলেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, বিধায়কের প্রতিনিধি দলও এসেছিল।
কিন্তু সময়সীমা বাড়ানো ছাড়া পুনর্বাসন নিয়ে কোনও স্পষ্ট পদক্ষেপ করা হয়নি।এই দোকানগুলির অনেকই ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছেন।
এই ছোট্ট দোকানই তাঁদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। সেই আয় দিয়েই সংসার চলে, সন্তানদের পড়াশোনা হয়, বাড়িতে খাবার জোটে। এখন দোকান হারিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার।সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মহিলা ব্যবসায়ীদের।
অনেক পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী মহিলা সদস্যই এই দোকান চালিয়ে সংসার সামলাতেন। আজ তাঁদেরও দোকান সরিয়ে নিতে হচ্ছে। চোখে জল নিয়ে তাঁরা বলছেন, “পুনর্বাসন না দিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এখন আমরা কোথায় যাব? কীভাবে সংসার চলবে? মেয়ে মানুষ মাঠে-ঘাটে কাজও করতে পারব না।

