নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: সোমবার ২৫,মে :: ঘটনায় চাঞ্চল্য কলকাতায়, তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও পুর প্রশাসন । কলকাতার হেস্টিংস এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক সাত বছরের কন্যাশিশুর।
রাস্তার ধারে লাগানো একটি ভারী আলোকবাতির অংশ আচমকা খুলে শিশুটির মাথার উপর ভেঙে পড়ে বলে অভিযোগ। শিশুটির নাম গুড়িয়া খাতুন ।
গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে কলকাতার হেস্টিংস থানা এলাকায় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিকট শব্দে আলোটি শিশুটির মাথায় আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই সে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন।
শিশুটিকে তড়িঘড়ি নিকটবর্তী এস এস কে এম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাথায় গুরুতর আঘাত লাগার কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওই কন্যাশিশুর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত গুড়িয়া তার পরিবারের সঙ্গে হেস্টিংস উড়ালপুলের তলার ফুটপাথে থাকত। উড়ালপুল লাগোয়া একটি হাই-মাস্ট বাতিস্তম্ভের নিচের অংশটিই ছিল তার সারাদিনের খেলাধুলোর প্রিয় জায়গা। অন্য দিনের মতো সোমবার সকালেও সে সেখানে বসে খেলা করছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ-এর আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ লাইটপোস্টটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংস্থা বা বিভাগের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাব বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকার একাধিক রাস্তার আলোর খুঁটি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ ছিল। একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভও দেখান।
পুর প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় থাকা পুরনো আলোকব্যবস্থার নিরাপত্তা পরীক্ষাও শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

