সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: সোনারপুর :: শনিবার ৩০,মে :: রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনা।
স্থানীয় একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে তিনি জনরোষের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় এবং বিক্ষোভকারীদের একাংশ ডিম ছোড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত অভিষেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়নমূলক কাজের গতি এবং রাজনৈতিক ক্ষোভকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ বিক্ষোভে সামিল হন।
যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এটি ছিল পরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের উসকানিতে সংগঠিত একটি ঘটনা। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার সকলের থাকলেও হিংসাত্মক আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “ভয় দেখিয়ে বা আক্রমণ করে আমাকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে সরানো যাবে না। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু হিংসা কখনও সমাধানের পথ নয়।”
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই ঘটনা ঘটেছে। যদিও তারা সরাসরি হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কীভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। একদিকে শাসকদল বিষয়টিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরতে পারে, অন্যদিকে বিরোধীরা জনঅসন্তোষের ইস্যুকে সামনে আনতে পারে।
ফলে আগামী দিনে সোনারপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর, জনসংযোগের প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা— এই তিনটি বিষয় এখন তদন্ত ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজ্য রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা পড়বে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

