শনিবার বিকেলে সোনারপুরের কামরাবাদ এলাকায় মৃত এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় হঠাৎই একদল উত্তেজিত মানুষ তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের মোবাইলে তোলা ভিডিও এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দৃশ্য খতিয়ে দেখে একে একে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। এরপরই শুরু হয় ধরপাকড়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস দত্ত, নির্মাল্য সেনগুপ্ত, তপন মাইতি-সহ মোট ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ধৃত সকলেই রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে যে অভিযুক্তরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি শারীরিক হেনস্থাও করছিলেন।
বিশেষ করে ধৃত আকাশ গায়েনকে প্রথমে হামলা চালাতে দেখা গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। জানা গিয়েছে, আকাশ মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। ফলে তার ভূমিকা নিয়ে বিশেষভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, এই হামলা তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল নাকি এর পিছনে কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না, অথবা কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেফতার হওয়া কয়েক জন এক সময় সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তাঁরা দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য হিসেবেও পরিচিত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে।
ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, দলীয় নেতার উপর যদি এভাবে হামলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত।

