মমতার নামে লালবাজারে হিন্দু মহাসভার এফআইআর – দেশদ্রোহিতার অভিযোগে বাড়ছে চাপ

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শুক্রবার ৫,জুন :: রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এবার লালবাজারে এফআইআর দায়ের করল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা ।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ, সাম্প্রতিক এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়েকটি মন্তব্য দেশের সার্বভৌমত্ব, সাংবিধানিক কাঠামো এবং জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী।

সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতাসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজুর দাবি জানানো হয়েছে। হিন্দু মহাসভার রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তা জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

সংগঠনের প্রতিনিধিরা লালবাজারে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে অবিলম্বে তদন্ত শুরুর দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের ভিডিও ও নথিও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী লালবাজারের সাইবার ক্রাইম শাখার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন।

চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেছিলেন, তা ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।

এছাড়া এর জেরে পশ্চিমবঙ্গসহ সমগ্র দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জন্য ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপি শিবিরের একাংশের দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

দলের মুখপাত্রদের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে বিকৃতভাবে তুলে ধরে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একাধিক আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই নতুন এফআইআর ঘিরে চাপ আরও বাড়তে পারে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দেশদ্রোহিতার মতো গুরুতর অভিযোগ আদালতে টিকিয়ে রাখতে হলে তদন্তকারী সংস্থাকে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণ পেশ করতে হবে।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। আগামী কয়েক দিনে এই অভিযোগ কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − 5 =