অভিষেকের মামলা আমরা কেউ লড়বো না – হুঙ্কার কল্যানের – বললেন হয় অভিষেক নয় আমি মমতা বেছে নিন

সুদেষ্ণা মন্ডল  :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বৃহস্পতিবার ১১,জুন :: শাসকদলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্য এবার প্রকাশ্যে চলে এল বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্রের দাবি, অভিষেকের হয়ে কোনও আইনি মামলা আর লড়বেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর পুত্র আইনজীবী শীর্ষন্য বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ধরনের মামলার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেকের মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন,

বুধবার রাতে সোয়া বারোটার সময় তাঁর ছেলেকে ফোন করে জানানো হয় যে, এই মামলায় জুনিয়র আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সওয়াল করবেন। প্রবীণ এই আইনজীবীর কথায়, “আমি এই পেশায় ৪৫ বছর আছি। এই উদ্ধত মনোভাব মেনে নেব না।

রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথিত বার্তা। দলীয় সূত্রে দাবি, তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— “দলে হয় অভিষেক থাকবেন, নয় আমি।” যদিও এই বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।

ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের মতে, এটি শাসকদলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দলের একাংশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন, আর এবার সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি এই বিরোধ আরও গভীর হয়, তবে তা দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন মতবিরোধ নেতৃত্বের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে দলের একাংশ অবশ্য বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, বড় রাজনৈতিক দলে মতপার্থক্য থাকতেই পারে এবং তা নিয়ে অযথা জল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলেও জানা গিয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। তিনি এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন এবং দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখের মধ্যে দূরত্ব কমানোর জন্য কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − 10 =