সই জাল মামলা – আজ সিআইডিতে অভিষেক-কুণালের মুখোমুখি জেরা ? রেজলিউশন বই ঘিরে বাড়ছে রহস্য

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কোলকাতা :: রবিবার ১৪,জুন :: বহুচর্চিত সই জালিয়াতি মামলায় আজ নতুন মোড় আসতে পারে বলে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।

তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও, তদন্তের স্বার্থে তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজলিউশন বই, যেখানে বিভিন্ন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, অনুমোদন এবং দায়িত্ব বণ্টনের নথি সংরক্ষিত থাকে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ওই নথির এক বা একাধিক পাতায় স্বাক্ষর ও অনুমোদন সংক্রান্ত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

সেই কারণেই সিআইডি মূল রেজলিউশন বই, সংশ্লিষ্ট বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং স্বাক্ষর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে চাইছে বলে সূত্রের দাবি। তদন্তকারীদের ধারণা, সংশ্লিষ্ট নথিতে কার স্বাক্ষর কখন এবং কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা স্পষ্ট হলে গোটা ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসতে পারে।

সেই কারণেই নথি প্রস্তুতকারী, রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, সিআইডি মূলত তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে—
রেজলিউশন বইয়ের সংশ্লিষ্ট নথি আদৌ বৈধভাবে অনুমোদিত হয়েছিল কি না।
স্বাক্ষরগুলি প্রকৃত নাকি পরে সংযোজিত বা নকল করা হয়েছে।
নথি ব্যবহারের মাধ্যমে কোনও প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক সুবিধা আদায় করা হয়েছিল কি না।

সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞদের মতামত, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ডিজিটাল রেকর্ডও খতিয়ে দেখছেন। প্রয়োজনে আরও কয়েকজন বর্তমান ও প্রাক্তন সংগঠনিক পদাধিকারীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।

এদিকে সম্ভাব্য মুখোমুখি জেরার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। বিরোধীদের দাবি, তদন্তে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দ্রুত সত্য সামনে আনা হোক। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

ভবানী ভবনের নিরাপত্তাও এদিন বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য মুখোমুখি জেরা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের নজর এখন সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। উল্লেখ্য, সিআইডি বা আদালতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তদন্ত চলছে এবং অভিযোগগুলি বিচারাধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × two =