নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: নয়াদিল্লি :: রবিবার ১৪,জুন :: লোকসভার অন্দরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের তীব্র বিরোধিতা, সায়নী ঘোষকে এই রূপেই দেখে অভ্যস্ত রাজনৈতিক মহল। অথচ পালটে গেল সব সমীকরণ।
তৃণমূলের অন্দরে মনে করা হচ্ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকবেন সায়নী ঘোষ। সেই ভেবেই তাঁকে যুব সভাপতি পদে রেখে দলে রদবদল করা হয়।
২ জুন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না আন্দোলনের ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন সায়নী। কিন্তু তারপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে চুপ হয়ে যান তিনি।
দিল্লির এই ডামাডোল এবং দলের যুব সভানেত্রীর পদ থেকে অপসারণ, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সায়নীর এই নীরবতাই আসলে ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল।
কিন্তু এই বিদ্রোহী দলে যোগ দেওয়াটাও কিন্তু সায়নির পক্ষে মতেই সহজ ছিলনা । অভ্যন্তরীণ সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, সায়নী ঘোষকে এই নতুন ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীতে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে দলেরই একাংশের তীব্র আপত্তি ছিল।
আপত্তি তোলার প্রথম সারিতে ছিলেন শতাব্দী রায়, জুন মালিয়ার মতো অন্তত আধ ডজন হেভিওয়েট তৃণমূল সাংসদ। সূত্রের খবর, তাঁদের স্পষ্ট যুক্তি ছিল— সায়নীর হাবভাব, অতি-সক্রিয়তা এবং আচরণ তাঁদের একেবারেই পছন্দ নয়।
কিন্তু রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। সোমবার সন্ধ্যায় সাংসদ শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে এক জরুরি ‘চা চক্র’-এর আয়োজন করা হয়। সেখানেই বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদদের বোঝানো হয় যে, “রাজনীতিতে এরকম গোঁ ধরে থাকলে হয় না, সবাইকে নিয়েই চলতে হবে।”
এই চা চক্রের পরেই বরফ গলে। শতাব্দী-জুনরা নরম হতেই সায়নী ঘোষের বিদ্রোহী ব্লকে যোগদানের রাস্তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয় বলে জানা গেছে।
তৃণমূলের অন্দরের বিদ্রোহী ব্লকে নাম লেখান সায়নী। স্পিকারের কাছে জমা পড়া চিঠিতে ১০ নম্বরে সই ছিল তাঁর। অন্যদিকে তৃনমূল এর নতুন তালিকা থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে ।
এখন দেখার আগামী কাল লোকসভায় এই জোটের সাংসদদের অবস্থান কোথায় হয় ,নতুন ব্লক না এনডিএ জোট ।

