কুমার পঙ্কজ :: সংবাদ প্রবাহ :: নয়াদিল্লি :: রবিবার ১৪,জুন :: তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের একাংশের সম্ভাব্য বিদ্রোহ এবং লোকসভায় পৃথক সংসদীয় ব্লক গঠনের জল্পনার মধ্যেই রবিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে পৌঁছান তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ এবংসাগরিকা ঘোষ ।
সূত্রের দাবি, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি চিঠি স্পিকারের দফতরে জমা দেওয়া হয় এবং সেই প্রেক্ষিতেই আলোচনা হয় সংসদীয় দলের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে।


বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ দাবি করেন, ‘‘কয়েকজন সাংসদ দল ছেড়ে আলাদা ব্লক বা গোষ্ঠী তৈরি করতে চাইলেই তা আইনি স্বীকৃতি পাবে না।সংসদীয় বিধি এবং দলত্যাগ-বিরোধী আইন এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট।’’
কী বলছে আইন?
সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের অধীনে কোনও নির্বাচিত সাংসদ যদি স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করেন অথবা দলের হুইপ অমান্য করেন, তবে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে রাজনৈতিক দল ভেঙে নতুন গোষ্ঠী গঠনের ক্ষেত্রে কিছু আইনি ছাড় থাকলেও ২০০৩ সালের সংশোধনের পর সেই সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়েছে। বর্তমানে কোনও দলের সংসদীয় শাখার একটি অংশ আলাদা ব্লক গঠন করতে চাইলে শুধু সংখ্যার জোর যথেষ্ট নয়।
তার জন্য দলীয় কাঠামো, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং স্পিকারের স্বীকৃতির মতো একাধিক বিষয় বিবেচ্য।
আইনবিদদের একাংশের বক্তব্য, কেবল কয়েকজন সাংসদের যৌথ ঘোষণা কোনও নতুন সংসদীয় দলকে স্বয়ংক্রিয় বৈধতা দেয় না। বরং দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের অবস্থান খতিয়ে দেখা হতে পারে।
দিল্লির রাজনৈতিক মহলে গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের অসন্তোষ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব, সংসদীয় কৌশল এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মতভেদের অভিযোগ উঠেছে। সেই আবহেই কয়েকজন সাংসদের পৃথক অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
তৃণমূল নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, দলের নির্বাচনী প্রতীক ও সংসদীয় পরিচয় অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং কোনও বিচ্ছিন্ন উদ্যোগকে দল স্বীকৃতি দেবে না। সেই বার্তাই স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
স্পিকারের ভূমিকা কী?
লোকসভায় কোনও গোষ্ঠীর স্বীকৃতি, দলত্যাগ সংক্রান্ত অভিযোগ বা সংসদীয় দলের মর্যাদা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা যতই বাড়ুক না কেন, বিদ্রোহী সাংসদদের পৃথক ব্লক গঠনের প্রশ্নে শেষ কথা বলবে সাংবিধানিক বিধান এবং স্পিকারের সিদ্ধান্তই— এমনটাই মনে করছেন সংসদীয় বিষয়ক পর্যবেক্ষকরা।
রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দিল্লির পরবর্তী বৈঠকগুলির দিকে। বিদ্রোহের জল্পনা কতটা বাস্তব রূপ নেয় এবং তৃণমূল নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে, সেটাই আগামী কয়েকদিনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

