পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর – জিটিএ-তে স্বচ্ছতার আশ্বাস, কালিম্পংয়ে মেডিকেল কলেজ, পাহাড়ে আধুনিক স্টেডিয়ামের ঘোষণা

সজল দাশগুপ্ত  :: সংবাদ প্রবাহ :: কার্শিয়াং :: মঙ্গলবার ১৬,জুন :: পাহাড় সফরে এসে উন্নয়ন ও স্বচ্ছ প্রশাসনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে পর্যটক হিসেবে আসতেন, আমি কিন্তু কাজ করতে এসেছি।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের উন্নয়নমূলক চাহিদা পূরণ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, অতীতে পাহাড়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জিটিএ-তে দুর্নীতি হয়েছে বলে বহু অভিযোগ রয়েছে।

আমরা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়নের প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।” সভায় তিনি পাহাড়বাসীর জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হল কালিম্পংয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয় ছাত্রছাত্রীরাও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ লাভ করবেন। এছাড়াও পাহাড় অঞ্চলে একটি আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য, ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে পাহাড়ের যুব সমাজের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করা জরুরি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান—এই চারটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পাহাড়ে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

রাজ্য সরকার পাহাড়ের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে বিরোধী শিবির মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, শুধুমাত্র ঘোষণা নয়, বাস্তবে কতটা কাজ হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। তারা দাবি করেছে, পাহাড়বাসী অতীতে বহু প্রতিশ্রুতি শুনেছেন, তাই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নই হবে আসল পরীক্ষা।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর সফর ও উন্নয়নমূলক ঘোষণাকে ঘিরে পাহাড়ের বিভিন্ন মহলে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে মেডিকেল কলেজ ও স্টেডিয়ামের ঘোষণাকে অনেকেই এলাকার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three − one =