জাহাঙ্গীর খানের মুক্তির দাবিতে ফলতায় রাস্তা অবরোধ, মহিলাদের বিক্ষোভে উত্তেজনা; মৃদু লাঠিচার্জ কেন্দ্রীয় বাহিনীর

সুদেষ্ণা মন্ডল  :: সংবাদ প্রবাহ :: ফলতা :: মঙ্গলবার ১৬,জুন :: ফলতার তৃণমূল নেতা তথা ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত জাহাঙ্গীর খানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।

এবার তাঁর মুক্তির দাবিতে এবং গ্রেপ্তারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে ঘোরানোর অভিযোগে মঙ্গলবার ফলতা থানার অন্তর্গত মল্লিকপুর এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন একাংশের মহিলা আন্দোলনকারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই মল্লিকপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর খানের সমর্থক বলে দাবি করা একদল মহিলা জড়ো হতে শুরু করেন।তাঁদের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর খানকে গ্রেপ্তারের পর যেভাবে প্রকাশ্যে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হয়েছে, তা মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই ঘটনার প্রতিবাদেই তাঁরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীরা রাস্তার উপর বসে পড়ে জাহাঙ্গীর খানের দ্রুত মুক্তির দাবি তোলেন। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, আইন আইনের পথে চলবে ঠিকই, তবে কাউকে অপমানজনকভাবে জনসমক্ষে ঘোরানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রাস্তা অবরোধের জেরে মল্লিকপুর এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফলতা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অবরোধ তুলতে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বচসা শুরু হয়।

একসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আন্দোলনকারীদের একাংশের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের বাকবিতণ্ডা বাড়তে থাকে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

অভিযোগ, অবরোধ সরাতে আন্দোলনকারীদের উপর মৃদু লাঠিচার্জ করা হয়। যদিও প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়ালেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

আগামী দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five + 13 =