সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: জয়নগর :: শনিবার ২০,জুন :: চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। জয়নগরের এক গৃহবধূ, রাবিয়া ফকিরের পচাগলা দেহ উদ্ধার হল বকখালির হেনরি আইল্যান্ড সংলগ্ন জঙ্গল এলাকা থেকে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গৃহবধূর কথিত প্রেমিক জাহিরুল সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে এটি পরিকল্পিত খুনের ঘটনা বলে সন্দেহ করছে তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাবিয়া ফকির। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
তদন্ত শুরু করে পুলিশ তাঁর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য এবং পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে জাহিরুল সর্দারের সঙ্গে রাবিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় জাহিরুলের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
এরপর আরও গভীর তদন্তে নেমে পুলিশ হেনরি আইল্যান্ড এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় এক নারীর পচাগলা দেহ। পরে পরিবারের সদস্যরা পোশাক ও অন্যান্য সূত্র দেখে দেহটি রাবিয়া ফকিরের বলে শনাক্ত করেন।
তদন্তকারীদের অনুমান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও খুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় জয়নগর ও বকখালি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত জাহিরুল সর্দারকে আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

