বেতাজ বাদশা’র পতন – তোলাবাজি-শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডল – অস্ত্র উদ্ধারের দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: রায়না :: রবিবার ২১,জুন :: তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি ও মারধরের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের রায়না-১ ব্লকের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করল রায়না থানার পুলিশ। ধৃতকে পেশ করা হয় রবিবার বর্ধমান জেলা আদালতে।

শনিবার গভীর রাতে যাকতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন ধৃতকে তোলা হয় আদালতে। স্থানীয় সূত্রে বামদেব মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার ‘বেতাজ বাদশা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি, মারধর-সহ একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে যাকতা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় বামদেব মণ্ডলের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও অপরাধমূলক যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই গ্রেপ্তারির ঘটনায় রায়না-সহ গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর গ্রেপ্তারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

ঘটনা প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রায়নার বিধায়ক সুভাষ পাত্র। তিনি বলেন, “আগে দেখতে হবে বামদেব মণ্ডল কীভাবে বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছিল। বেতাজ বাদশা হয়েছে বলেই তো আজ গ্রেপ্তার হয়েছে। সে কী কী কুকর্ম করেছে, রায়নার মানুষ সবাই জানেন।

দক্ষিণ দামোদর অঞ্চল-সহ গোটা রায়না-১ ব্লকের মানুষ জানেন, তাঁদের উপর কীভাবে অত্যাচার চালানো হতো, কীভাবে হুমকি দেওয়া হতো। যত ধরনের কুকর্ম ছিল, সবকিছুর সঙ্গেই বামদেব মণ্ডলের নাম জড়িয়ে ছিল। শাসকদলে থেকেও সাধারণ মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেননি তিনি”।

একজন শাসকদলের বিধায়কের মুখে দলেরই এক প্রাক্তন ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা বা ব্লক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

অন্যদিকে, ধৃত বামদেব মণ্ডল বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও বক্তব্য সামনে আসেনি । পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলির পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ফলে গোটা ঘটনার দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষেরও। রায়না জুড়ে এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 1 =