নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: চেন্নাই :: রবিবার ২১,জুন :: তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার একটি বেসরকারি চিংড়ি মাছ প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানি কারখানায় ভয়াবহ অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের ঘটনায় অন্তত দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বহু কর্মীকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত ৪৬ জন শ্রমিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
রবিবার সকালে তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়ম এলাকার একটি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় হঠাৎ অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। কারখানার ভিতরে কর্মরত শ্রমিকরা শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং বমির উপসর্গ নিয়ে একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়েন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কারখানার একটি পরিমাপক ভালভ (মেজারমেন্ট ভালভ) থেকে গ্যাস লিকের সূত্রপাত হতে পারে। আক্রান্তদের অধিকাংশই ভিনরাজ্যের শ্রমিক, যাঁরা কারখানা সংলগ্ন আবাসনে থাকতেন। গ্যাসের সংস্পর্শে আসার পর দ্রুত তাঁদের নিকটবর্তী হাসপাতালগুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন শ্রমিককে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে। গুরুতর আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে শিল্প নিরাপত্তা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরা রয়েছেন। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট এবং তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও শিল্পাঞ্চলগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবহৃত কারখানাগুলিতে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে কার্যকর না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
সংবাদদাতা: শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে ।

