চন্দননগরের জলভরা ও বলাগড়ের ডিঙ্গি নৌকায় জি আই ট্যাগ, বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল হুগলির ঐতিহ্য

জাকির আলী :: সংবাদ প্রবাহ :: চন্দননগর :: শনিবার ২৭,জুন :: হুগলির সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী সম্পদের ভাণ্ডারে আরও একটি গৌরবের পালক যুক্ত হল।

বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চন্দননগরের বিখ্যাত মিষ্টি ‘জলভরা’ এবং বলাগড়ের ঐতিহ্যবাহী ডিঙ্গি নৌকা আনুষ্ঠানিকভাবে জি আই (Geographical Indication) ট্যাগ লাভ করেছে।

এই স্বীকৃতির ফলে শুধু রাজ্য নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও হুগলির নাম আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় মিষ্টি। প্রায় দেড়শো বছরেরও বেশি পুরনো এই মিষ্টির ভিতরে তরল রস ভরা থাকার বিশেষত্বই একে অন্য সব সন্দেশ থেকে আলাদা করেছে।স্থানীয় মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা জানান, জি আই ট্যাগ পাওয়ার ফলে এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বকীয়তা রক্ষা পাবে এবং নকল পণ্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা মিলবে। অন্যদিকে, হুগলির বলাগড় অঞ্চল বহু শতাব্দী ধরে দক্ষ নৌকা নির্মাণ শিল্পের জন্য পরিচিত।

এখানকার কারিগরদের হাতে তৈরি ডিঙ্গি নৌকা একসময় নদীপথের প্রধান পরিবহণ মাধ্যম ছিল। আজও মাছ ধরা, নদী পারাপার এবং বিভিন্ন জলপথে এই নৌকার ব্যবহার দেখা যায়। জি আই ট্যাগ প্রাপ্তির ফলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প নতুন করে পরিচিতি পাবে বলে আশা করছেন কারিগররা।

জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, এই স্বীকৃতি স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। পর্যটন শিল্পেরও প্রসার ঘটবে। চন্দননগরের মিষ্টি শিল্প এবং বলাগড়ের নৌকা নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষের জীবিকা আরও সুরক্ষিত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক স্বীকৃতি নয়, বরং হুগলির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মিষ্টি ব্যবসায়ী, নৌকা নির্মাতা, ইতিহাসবিদ এবং সাধারণ মানুষ সকলেই এই অর্জনকে জেলার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জি আই ট্যাগের ফলে ভবিষ্যতে চন্দননগরের জলভরা এবং বলাগড়ের ডিঙ্গি নৌকা বিদেশের বাজারেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এর মাধ্যমে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

হুগলির ঐতিহ্যের এই দ্বৈত স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে জেলার সাংস্কৃতিক মর্যাদাকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলার গৌরবকে আরও সমৃদ্ধ করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =