আলুর বীজ সংকটের সমাধান ও চাষিদের স্বার্থরক্ষায় রাজ্য কমিটির জরুরি সভা বর্ধমানে, সভায় উপস্থিত বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়িকা তথা শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: রবিবার ২৮,জুন :: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আলু বীজ ব্যবসায়ী সমিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো হলো বর্ধমানের টাউনহলের পেক্ষাগৃহে ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য আলু বীজ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক প্রবীর কুমার দে এবং সভাপতি দেবেশ ঘোষ সহ রাজ্য কমিটির উপদেষ্টা ও কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এবং মেমারির বিধায়ক মানব গুহ ।

সভার মূল আলোচ্য বিষয় সমিতির সম্পাদক প্রবীর কুমার দে জানান, এবারের সভার মূল এজেন্ডা ছিল গত বছর আলু ব্যবসা ও বীজ কেনা-বেচার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমস্যা এবং তার সমাধান সূত্র খোঁজা।

তিনি বলেন বিভিন্ন ফার্ম থেকে বীজ কেনার পর ব্যবসায়ীরা যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে টাকা নিয়েও আলু বা সঠিক বীজ না দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি আরও যোগ করেন যে, অতীতে চাষি ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা পুরোপুরি সফল না হলেও, এবার নতুন করে সেই প্রচেষ্টা চালানো হবে।

সভাপতি দেবেশ ঘোষ পাঞ্জাবের আলুর বীজের মান এবং কৃত্রিম দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পাঞ্জাবের অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উন্নত মানের বীজ তৈরি হয়, যার ওপর বাংলার চাষিদের নির্ভর করতে হয়। কিন্তু পরিস্থিতি অনুযায়ী পাঞ্জাবের ব্যবসায়ীরা অসদুপায় অবলম্বন করছেন।

যেখানে এক বস্তা বীজ উৎপাদনে খরচ হয় মাত্র ৩০০ টাকা, সেখানে তা বাংলার চাষিদের কাছে ৩,০০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বীজের দাম বাড়লে তারা সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, আবার দাম কমলে দ্বিগুণ পরিমাণ নিম্নমানের বীজ পাঠিয়ে দেয়।

সমিতির পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের কাছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশ্যে জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে। দেবেশ ঘোষ বলেন, ২০২৬ সালে এসে আলু ও পাঞ্জাবের বীজের ব্যবসার পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। তাই চাষি ও বীজ সংগঠনকে বাঁচাতে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত।

সমিতির দাবি, বাংলাতেই যাতে উন্নত মানের আলুর বীজ উৎপাদন বা প্রডাকশন করা যায়, তার জন্য সরকারকে উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। একই সাথে বীজের দাম যাতে চাষিদের নাগালের মধ্যে (৩০০ টাকা বীজের দাম এবং ৩০০ টাকা গাড়ি ভাড়া মিলিয়ে) রাখা যায়, সেই বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আলু ব্যবসায়ী সমিতির এই সংগঠনটি হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা সহ সমগ্র রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত। চাষিদের স্বার্থরক্ষা না হলে রাজ্য ও দেশের অর্থনৈতিক প্রগতি সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সমিতির শীর্ষ নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × four =